Friday, 7 January 2011

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে এক বছরে বিএসএফের গুলিতে নিহত ১৩ আহত শতাধিক

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

সাধারণ বাংলাদেশীদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত। সদ্য পার হওয়া বছর ২০১০-এ শুধু এ জেলার সীমান্তেই বিএসএফের হাতে ১৩ বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। মূলত সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত নিরীহ বাংলাদেশী কৃষক ও গরু ব্যবসায়ীরাই এখন বিএসএফের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। সীমান্তে আর গোলাগোলি নয়—একাধিকবার এমন আশ্বাস দিয়েও তা রক্ষা করেনি বিএসএফ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এমন একটি গ্রাম নেই, যেখানকার মানুষ বিএসএফের আগ্রাসনের শিকার হননি। সবচেয়ে বিপদের মুখে আছেন সাধারণ কৃষক ও গরু ব্যবসায়ীরা। সীমান্ত সংলগ্ন জমিতে ফসল ফলাতে মাঠে যাওয়া এখন যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এসব নিরীহ বাংলাদেশীর। প্রায়ই বাংলাদেশী কৃষক ও গরু ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বিএসএফ সদস্যরা নির্বিচার গুলিবর্ষণ করছে। নোম্যান্সল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত শত শত একর জমিতে চাষ করতে গিয়ে প্রতিদিন আতঙ্কে দিন কাটান কৃষকরা। যারা জীবন জীবিকার তাগিদে সব ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে জমি চাষ করতে অথবা সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে যান তাদের অনেকেই আর প্রাণ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন না। গত বছর বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে নিহত হয়েছেন ১৩ বাংলাদেশী। এরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার শিংনগর সীমান্তে মনিরুল ইসলাম, সদর উপজেলার ওয়াহেদপুর সীমান্তে শ্যামল কর্মকার, শিবগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর সীমান্তে মুকুল হোসেন, কিরণগঞ্জ সীমান্তে তোজাম্মেল হক, ওয়াহেদপুর সীমান্তে হাবিবুর রহমান হাবু, ফতেপুর সীমান্তে শফিকুল ইসলাম, চৌকা সীমান্তে রবু মিয়া, শিংনগর সীমান্তে মো. ফটিক ও ইসমাইল হোসেন, মনোহরপুর সীমান্তে সাইদুর রহমান, মনাকষা সীমান্তে মো, ফটিক, শিংনগর সীমান্তে আবদুল লতিফ এবং সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বর মাসুদপুর সীমান্তে মো. মাহবুব। এছাড়া এক বছরে বিএসএফের নির্যাতনে আরও শতাধিক বাংলাদেশী আহত হয়েছেন।
প্রতিটি ঘটনার পর বিডিআরের পক্ষ থেকে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য আহ্বান জানানো হলেও কিছুদিন পরই আবার সেই পুরনো চেহারাতেই ফিরে যাচ্ছে বিএসএফ। দু’দেশের সীমান্তে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে দু’দেশের বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত পতাকা বৈঠকসহ প্রীতি ফুটবল, ক্রিকেট ও ভলিবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও সীমান্তে কমছে না বিএসএফের আগ্রাসন।

No comments:

Post a Comment