Tuesday, 28 December 2010

লালমনিরহাটে বিএসএফ’র গুলিতে ব্যবসায়ী নিহত : সীমান্তে উত্তেজনা

লালমনিরহাট ও হাতিবান্ধা প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তে গতকাল ভোরে বিএসএফের গুলিতে সাইফুর রহমান (২০) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। ওই যুবকের লাশ বিএসএফ সদস্যরা টেনেহিঁচড়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে। সাইফুল উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের গোলাপ হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশী বর্ডার গার্ড (বিজিডি)। ঘটনার ১০ ঘণ্টা পরও সাইফুলের লাশ ফেরত না দেয়ায় ওই সীমান্তে বিজিডি-বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ফলে ওই সীমান্তের গ্রামবাসী ভয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিডি) সূত্র জানায়, গতকাল ভোর ৬টায় হাতিবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তের ৯০১নং মেইন পিলারের সাব-পিলার ৪-এর কাছে ভারতের ৪৬ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশে ঢুকে সাইফুলকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সাইফুল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর তারা সাইফুলের লাশ টেনেহিঁচড়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিডি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আসলাম হোসেন জানান, বিএসএফের গুলিতে নিহত সাইফুল গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সীমান্তে ভারতীয় গরু নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমানা আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তার লাশ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। লাশ ফেরত চেয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় বিশেষ দূতের মাধ্যমে ৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো সাড়া মেলেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরো সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যে কোনো মুহূর্তে আরও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সীমান্তবাসী আশঙ্কা করছেন ।

No comments:

Post a Comment