Wednesday, 29 December 2010

সিলেট সীমান্তে আড়াইশ’ কি.মি. কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ভারতের : করিমগঞ্জে ১৪৪ ধারা : নতুন বছরের শুরুতে সীমান্ত জরিপ

এটিএম হায়দার সিলেট

বৃহত্তর সিলেট সীমান্তে প্রায় আড়াইশ’ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করেছে ভারত। আরও ১২২ কিলোমিটার বেড়া নির্মাণ চলছে। এমনকি কাঁটাতার থাকাবস্থায়ও করিমগঞ্জ সীমান্তে রাতকালীন ১৪৪ ধারা জারি রেখেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। চোরাকারবার রোধ ও বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশ রোধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে ভারতীয় পত্রিকায় বলা হয়েছে। এদিকে স্থগিত হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জরিপ নতুন বছরে শুরু হচ্ছে। রোববার বিকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদুয়া সীমান্ত ঘুরে গেছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কেবল আসাম ও মেঘালয়ে ৫৭০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করেছে ভারত। এছাড়া ১২২ কিলোমিটারের বেড়া নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলছে। সীমান্তের ১৩০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়নি, যার বেশিরভাগ মেঘালয়ের জৈন্তা হিলস ডিস্ট্রিক এলাকায়। বর্তমানে এ এলাকা সীমান্তে ভূমির জরিপ কাজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিএসএফের আসাম-মেঘালয় ফ্রন্টের ইন্সপেক্টর জেনারেল আরসি সাক্সেনা সম্প্রতি শিলংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ এক বছরে ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার ভারতীয় রুপির গরু, গাঁজা, কাঠসহ আটক করেছে। এছাড়া তিনি ভারতের বিভিন্ন সংগঠনের ৪২ উগ্রপন্থীকে আটক, ২ অস্ত্র ব্যবসায়ী, ৫০ লাখ রুপির ব্রাউন সুগার আটকের তথ্য দেন। এদিকে সিলেটের জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার
উপজেলার বিপরীতে আসামের করিমগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১৪৪ জারি করেছে প্রশাসন। ভারতীয় পত্রিকার খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশ থেকে ভারতে উগ্রপন্থীদের প্রবেশ, চোরাকারবার রোধসহ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এক আদেশ জারি করে ভারত-বাংলা সীমান্তে রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ১০০ মিটার এলাকায় চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। করিমগঞ্জের ভাঙ্গা থেকে সরিষা পর্যন্ত এলাকা জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী সীমান্ত সংলগ্ন ২০০ মিটার এলাকা এবং কারখানা পুতনী থেকে লাফাশাইল পর্যন্ত সীমান্ত সংলগ্ন ৫০০ মিটার এলাকায় চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কুশিয়ারা নদী ও তার তীরের ক্ষেত্রে একই আদেশ বলবত্ থাকবে। এছাড়া রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত লক্ষ্মীবাজার, টিলাবাজার, চুরাইবাড়ি, কুকিতল, চাঁদখিরা, আদমটিলা, মোকামটিলা, বিলবাড়ি, ফকিরবাজার থেকে লাতু-মহিশাসন পূর্ত বিভাগের সড়কেও যান চলাচল করতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীতে দেশি নৌকা নিয়ে চলাচল করতে পারবে না। এমনকি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৫০০ মিটার এলাকায় গবাদিপশু নিয়ে চলাচল করতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চাল, চিনি, মদ, কাপড়, সুপারি, তেল, বাঁশ, কাঠ নিয়ে চলাচল করতে পারবে না। তবে করিমগঞ্জ শহর এলাকায় এ আদেশ বলবত্ থাকবে না। অনুপ্রবেশ ও চোরাকারবার রোধে জেলা প্রশাসন এ আদেশ জারি করেছে।
অপরদিকে সিলেট সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ সীমানা জরিপ নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে পারে। ভারতে মেঘালয় রাজ্যের বিপরীত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পদুয়া এবং জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবিবিল ও কেন্দ্রীয় হাওরে বিরোধপূর্ণ ভূমির জরিপ বিভিন্ন কারণে স্থগিত রয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ হাশিম রোববার বিকালে গোয়াইনঘাটের পদুয়া সীমান্ত পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে বিরোধপূর্ণ ভূমি নিয়ে বিজিবি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের প্রতাপপুরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত ঘটনাবহুল পদুয়া গ্রামের ২৩০ একর ভূখণ্ড ভারত জোরপূর্বক নিজেদের দখলে রেখেছে। আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার বিরাজমান অবস্থায় ভারত কর্তৃক জোরপূর্বক বেদখলে রাখা এই জমি গত ২৯ বছর ধরে বাংলাদেশের হাতছাড়া রয়েছে। সীমান্ত জরিপে পদুয়া ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ আশঙ্কা থেকে জরিপ চলাকালীন গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ সীমান্তে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে। চলতি মাসের ৭ তারিখ দুই দেশের ভূমি সার্ভে কমিশনের যৌথ বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে সীমান্তের ভূমি জরিপ শুরু হয়। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মেঘালয়-সিলেট সীমান্তের জরিপ শেষ হওয়ার কথা।

No comments:

Post a Comment