Wednesday, 29 December 2010

সিলেটে পদুয়া সীমান্তে শক্তি বাড়িয়েছে বিএসএফ

এটিএম হায়দার সিলেট

ভারতের মেঘালয় রাজ্য সংলগ্ন সিলেটের সীমান্তে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সীমান্ত জরিপ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পুনরায় শুরু হতে পারে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জরিপ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি জরিপ চলাকালে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের বাড়াবাড়ি এবং ক্রিসমাস ও নববর্ষ উপলক্ষে বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন সূত্রমতে ভারতের জবল দখলে থাকা বাংলাদেশের পদুয়ায় সম্প্রতি বিএসএফ তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করলেও এর কারণ জানা যায়নি। এদিকে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ জরিপ সম্পাদনে আশাবাদী থাকলেও মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো নিরসন না হলে পুনরায় জরিপ শুরু হলেও তার সফলতা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। আগের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর জরিপ শেষ হওয়ার কথা। তবে ভারতীয় একটি পত্রিকায় বলা হয়, জরিপ কাজ ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জরিপ দলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জরিপ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জৈন্তাপুর সীমান্তের নিজপাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মখলিছুর রহমান দৌল্লা আমার দেশকে বলেন, সীমানা পিলার অনুযায়ী সঠিক সার্ভে হওয়া দরকার। এতে যার যার ভূমি সঠিকভাবে চিহ্নিত হবে। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নের ডিবি বিলে ভারতীয়রা জরিপ শুরুর আগেই ৫৫ একর জমি তাদের বলে দাবি করে। তারা নিজেদের একতরফাভাবে তৈরি একটি ম্যাপও দেখায়। যা বাংলাদেশী জরিপ দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সঠিক জরিপ হলে আমাদের ভূমি ভারতীয় জবরদখল থেকে মুক্ত হবে। এ ব্যাপারে পশ্চিম জাফলং ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার উপস্থিতিতে জরিপ শুরু করা হলে তখন বোঝা যাবে কারা জরিপ কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সঠিক জরিপ হলে তার ইউনিয়নে জবরদখলকৃত সোনারহাট ও পদুয়ার জমি অবশ্যই ফেরত পাওয়া যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মেঘালয় থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সীমান্ত জরিপ পুনরায় শুরু হবে। পত্রিকায় আরও বলা হয়, বড়দিন উপলক্ষে রাজ্যের জরিপ দল সাময়িকভাবে কাজে বিরতি দিয়ে ছুটিতে গেছেন। মুক্তাপুরে বাংলাদেশের লোকজনের আপত্তিতে জরিপে বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এরই মধ্যে লোভাছড়ায় জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৯টি স্থান—লিংখহাট, পদুয়া, কুরিনালা, তামাবিল, আমলিয়ামপিয়িং, রঙখন, আমকি, আমিয়ালঙ ও মুক্তাপুরে সীমান্ত জরিপ করা হবে। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জরিপ শেষ হওয়ার কথা।
সীমান্ত থেকে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সাম্প্রতিক জরিপ শুরুর পর থেকে পদুয়ায় বিএসএফ অতিরিক্ত শক্তি বৃদ্ধি করেছে। গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর বিএসএফের ছত্রছায়ায় দেড়-দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিক তীর-ধনুক নিয়ে বিরোধপূর্ণ ২৩০ একর জমিতে অবস্থান নিলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অবশ্য পরদিন বিএসএফ পতাকা বৈঠকে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। বিভিন্ন সূত্রমতে, জরিপ এলাকাগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে বিএসএফ। কি উদ্দেশ্যে বিএসএফ শক্তি বৃদ্ধি করেছে তা রহস্যজনক।
বাংলাদেশ ও ভারতের ভূমি রেকর্ড সার্ভে কমিশন গত ২৯ নভেম্বর তামাবিল সীমান্তে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিরোধপূর্ণ ভূমির জরিপ শুরুর সিদ্ধান্তে ঐকমত্য হয়। সেই মোতাবেক ৭ ডিসেম্বর গোয়াইনঘাটের সোনারহাট সীমান্তে প্রাথমিক আলোচনা শেষে ৮ ডিসেম্বর মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয়। কিন্তু জরিপ চলাকালে জৈন্তাপুরের ডিবি বিলে ভারতীয়দের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভূমির মালিকানা দাবি এবং পদুয়ায় ভারতীয়দের উস্কানিমূলক আচরণে জরিপ কাজ ব্যাহত হয়। জরিপ চলাকালে ভারতীয়দের ‘বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার’—এ নীতি অবলম্বনসহ জবরদস্তি আচরণে জরিপের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে বলে বাংলাদেশের জরিপ কর্তৃপক্ষ মনে করছে।

No comments:

Post a Comment