Sunday, 27 March 2011

সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন অব্যাহত : মৃত্যু আতঙ্কে সীমান্তবাসী : বিএসএফের গুলিতে দশ বছরে নিহত অর্ধশতাধিক

সরদার এম. আনিছুর রহমান, রাজশাহী

বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) আগ্রাসী মনোভাব অব্যাহত রয়েছে। তারা নতুন নতুন কৌশলে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। গুলি করে নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যার পাশাপাশি তারা এখন সীমান্ত থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের ধরে নিয়ে গিয়ে বেদম মারধরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমনকি হাত-পায়ের রগ কেটে সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদীতেও ফেলে দেয়া হচ্ছে বলে সীমান্তের নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন। এদিকে নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে ৫ দিনব্যাপী আলোচনার সময়ও রাজশাহীর খানপুর সীমান্তে বিএসএফের গাড়িচাপায় ও নির্যাতনে ১৭ বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী আহত হওয়ার ঘটনা সীমান্তবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এর আগে ৮ জানুয়ারি খানপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী নিহত হয়।
রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্তে গত ১০ বছরে বিএসএফের নির্বিচার গুলিতে ৪ বিজিবি সদস্যসহ ৬০ জনের বেশি বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছে। কোনো কোনো সময় বিএসএফ বিনা উস্কানিতে বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও মর্টার হামলা চালায়। এতে সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে ভীতির সঞ্চার হয়।
বিএসএফ অধিকাংশই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে চোরাচালানের দোহাই দিয়ে। তারা সীমান্ত বিধিলঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে বাংলাদেশী নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করে, আবার কখনও কখনও হত্যার পর লাশ নিয়ে চলে যায়। এ নিয়ে বারবার সাবেক বিডিআর (বিজিবি)-বিএসএফ পতাকা বৈঠক হলেও বাংলাদেশী নিহতের ও নির্যাতন ক্রমেই বাড়ছে। সূত্রমতে, বিএসএফের টহল দিতে ভারত সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করলেও
বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহালদশা। ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিজিবিকে সাইকেলে কিংবা পায়ে হেঁটেই সীমান্তে টহল দিতে হয়। আর এ সুযোগেই বিএসএফ সদস্যরা সহজেই বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে গুলি করে কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। কোনো কোনো সময় সীমান্ত এলাকা থেকে ফসলসহ গবাদিপশুও ধরে নিয়ে যায়। এসব ঘটনা অহরহ ঘটলেও কোনো প্রতিকার নেই।
এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর সীমান্তে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে বিএসএফের নির্যাতনে ৪ বাংলাদেশী আহত হয়। এই চার গরু ব্যবসায়ী পদ্মা নদী দিয়ে ভারত থেকে গরু আনার সময় বিএসএফ জওয়ানরা তাদের মারধরসহ ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। আহত অবস্থায় তারা সাঁতরে বাংলাদেশে ফিরে আসে। গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এসব সীমান্তে আরও অন্তত ১৫-২০ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর রাজশাহীর খানপুর সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে এক গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
রাজশাহীর ৩৭ ব্যাটালিয়ন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩৯ রাইফেল ব্যাটালিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, হঠাত্ বিএসএফ নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় শক্ত প্রতিবাদ জানালেও বিএসএফ কর্ণপাত করছে না। ১৯৭৫ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি ও গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে দেয়া যৌথ ইশতেহারও বিএসএফ তোয়াক্কা করছে না।

No comments:

Post a Comment