Tuesday, 26 April 2011

সিলেট সীমান্তে যৌথ জরিপ কাজে ভারতের বাধা : বিভিন্ন সীমান্তে সহস্রাধিক একর বাংলাদেশের জমি দাবি ভারতের

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমিশন ২য় পর্যায়ের জরিপ কাজে বাধা দিচ্ছে ভারত। ডিবির হাওর সীমান্তে ৫৫ একর ৩০ শতক এবং একই সুরে পাদুয়া সীমান্তে ৩২০ একর বাংলাদেশের ভূমি ভারতের বলে দাবি করছে ভারতের জরিপ টিম। তবে তারা কিসের বলে এ ভূমি দাবি করছে সে ব্যাপারে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারেনি বাংলাদেশের টিমকে। এ নিয়ে একপর্যায়ে দু-দেশের জরিপ টিমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ভারত জরিপ কাজে বাধা দেয় এবং ভূমি জরিপ না করে বাংলাদেশের টিম চলে আসে। জরিপ কাজ চলা অবস্থায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তভূমি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে সমস্যা হচ্ছিল। জোর করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে ভারতীয় নাগরিদের মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া, জমির ফসল কেটে নেয়া, সীমান্ত থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের ধরে নিয়ে হত্যা করা, গরু-ছাগল ধরে নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিল বাংলাদেশী সীমান্ত নাগরিকরা। এ নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক বার গোলাগুলি হয়, যার ফলে শতাধিক বাংলাদেশী নাগরিক আহত হন।
এ ঘটনায় বিজিবির মহাপরিচালক ও সিভিল প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা সাপেক্ষে জরিপ কাজের মাধ্যমে সীমানা চিহ্নিত করার আশ্বাস দেন এবং সীমান্তবাসীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার কথা বলেন। এই আলোকে গত ১৩ ডিসেম্বর গোয়াইনঘাট সীমান্ত থেকে কানাইঘাট সীমান্ত পর্যন্ত যৌথ জরিপ কাজ শুরু হয়।
ওই উপজেলার সীমান্তে ভারতীয়রা বাংলাদেশের প্রায় সহস্রাধিক একর ভূমি তাদের বলে দাবি করে। এতে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারেনি ভারত। কিছুদিন জরিপ কাজ চলার পর ভারতীয়দের বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায় জরিপ কাজ।
সর্বশেষ গতকাল ৫ এপ্রিল উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর পাদুয়া সীমান্তের ১২৭০ নং পিলার ও ডিবির হাওর ১২৮৪নং পিলার থেকে সীমান্তে যৌথ জরিপ কাজ শুরু হয়। ডিবির হাওরে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক, ভূমি জরিপ রেকর্ড অধিদফতরের চার্জ অফিসার আবদুল কাদের, সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহিম খলিল ও মোকাদ্দেছ আলী, জৈন্তাপুর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোস্তফা কামাল ও দেলোয়ার হোসেন এবং ভারতের পক্ষে মেঘালয়ের সহকারী পরিচালক শ্রী মারইন, ক্যাম্প অফিসার শ্রী এলিন, সার্ভেয়ার শ্রী এ ই এল ল্যান্ড উপস্থিত ছিলেন। পাদুয়া সীমান্তে বাংলাদেশের পক্ষে সিলেটের এডিসি জেনারেল শামীম আল রাজী, কানুনগো আজহার এবং ভারতের পক্ষে সহকারী পরিচালক সাং প্লিয়াং ও সার্ভেয়ার তরুণ মারক উপস্থিত ছিলেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় উভয় স্থানে জরিপ কাজ করতে গেলে ভারতীয় জরিপ টিম ডিবির হাওর সীমান্তে ৫৫ একর ৩০ শতক এবং পাদুয়া সীমান্তে ৩২০ একর বাংলাদেশের হাজার গজ অভ্যন্তরে দাবি করে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জরিপ টিম প্রমাণপত্র দেখতে চাইলে কোনো ধরনের প্রমাণপত্র ভারতীয়রা দেখাতে পারেনি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ভারতীয়রা জরিপ কাজে বাধা দেয় এবং উচ্চপর্যায়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে জরিপ কাজ হবে কিনা তা ডিবির হাওরে আগামী ৭ এপ্রিল ও পাদুয়ায় ৬ এপ্রিল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানায়। ভারতীয়দের বাধার মুখে বাংলাদেশী জরিপ টিম জরিপ কাজ না করে চলে আসে।
এ ব্যপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফজুলল হকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ভারতীয়রা সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অন্যায়ভাবে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই ভূমি দাবি করছে, যা আমরা কোনোমতেই মানতে রাজি না হওয়ায় তারা জরিপ কাজ করতে বাধা দেয়। তবে আগামী ৭ এপ্রিল জরিপ কাজ হবে কিনা তারা জানাবে। উভয় দেশের জরিপ টিম কাজ করার সময় বিজিবি ও বিএসএফকে সীমান্তে সতর্কাবস্থানে দেখা যায়।

No comments:

Post a Comment