Tuesday, 26 April 2011

আশ্বাস দেয়ার পরও সীমান্তে বিএসএফের হত্যাযজ্ঞ : রাজশাহী সীমান্তে গুলিতে এক বাংলাদেশী নিহত

নাসির উদ্দিন শোয়েব

সীমান্তে হত্যা চলছেই। কথা রাখছে না ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)। দু’দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বহুবার সীমান্তে হত্যা বন্ধ রাখার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। কিন্তু সে আশ্বাস কোনোই কাজে আসছে না। বিএসএফের গুলিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর নির্মম মৃত্যুর পর ভারত সরকার কথা দিয়েছিল তারা আর সীমান্তে গুলি চালিয়ে কাউকে হত্যা করবে না। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় আনারও আশ্বাস দেয়া হয়। এমনকি প্রয়োজনে রাবার বুলেট ব্যবহারেরও ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু কথা রাখেনি বিএসএফ। আবারও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এক বাংলাদেশীকে।
আমাদের রাজশাহী অফিস জানায়, জেলার পবা উপজেলার সোনাইকান্দি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে সোমবার গভীর রাতে আলমগীর হোসেন কালু (৩০) নামের এক বাংলাদেশী নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে তার নাগরিকত্ব নিয়ে বিজিবি ও পুলিশ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। বিজিবি জানায়, নিহত ব্যক্তি ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার রানীনগর থানার বাশগাটা গ্রামের দেরাজ হোসেনের ছেলে। তবে পবা থানা পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি পবা উপজেলার বেড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্বজনরা নিয়ে গেছেন। এ ঘটনা নিয়ে বিজিবি ভুল তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশের দাবি। হাসপাতালের রেজিস্টারেও তার নাম-ঠিকানায় বাংলাদেশী উল্লেখ করলেও বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সে ভারতীয় নাগরিক। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সোনাইকান্দি বিওপির কোম্পানি কমান্ডার জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আলমগীর এপারে (বাংলাদেশে) পালিয়ে আসে। সোনাইকান্দি এলাকার বিওপি সদস্যরা তাকে আহত অবস্থায় রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রাজশাহী ৩৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার গাজী মোহাম্মদ খালিদ জানান, বিষয়টি তারা শুনেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পবা থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তি পবা উপজেলার বেড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার আত্মীয়রা হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে গেছেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বলেছিলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে গত ২৭ মাসে ১৩৬ বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। তিনি জানান, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত মার্চ পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ১৩৬ (২০০৯-এ ৬৭ জন, ২০১০-এ ৬০ জন ও চলতি বছর ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৯ জন) বাংলাদেশী নিহত ও ১৭০ জন আহত হয়। সাহারা খাতুন বলেন, মার্চে সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে পরীক্ষামূলকভাবে রাবার বুলেটের মতো নন লেথাল উইপন (প্রাণঘাতী নয়—এমন অস্ত্র) ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারত সরকার এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে রাবার বুলেট সরবরাহও করছে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ায় সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমে এসেছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে উভয় দেশ কাজ করছে।
সূত্র জানায়, ভারতীয় কোনো আশ্বাসই বাস্তবে প্রতিফলিত হয় না। দু’দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরও আগ্রাসী মনোভাব অব্যাহত রয়েছে। তারা নতুন নতুন কৌশলে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। গুলি করে নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যার পাশাপাশি তারা এখন সীমান্ত থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের ধরে নিয়ে গিয়ে বেদম মারধরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমনকি হাত-পায়ের রগ কেটে সীমান্ত সংলগ্ন নদীতেও ফেলে দেয়া হচ্ছে বলে সীমান্তের নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন।

No comments:

Post a Comment