Saturday, 29 January 2011

বিএসএফ গুলি করার পর কাঁটাতারে ৫ ঘণ্টা ঝুলে ছিল ফেলানির লাশ : অধিকারের রিপোর্ট


বিশেষ প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরীতে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানীর বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। গতকাল রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অধিকারের মানবাধিকার কর্মীরা ফেলানীর বাবা, চাচা, বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার, ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক, পুলিশ কর্মকর্তাসহ সরেজমিন সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। অধিকারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ফেলানীর কাপড় তারে আটকে যায়। এতে ভীত হয়ে সে চিত্কার করে ওঠে। এ অবস্থায় বিএসএফ খুব কাছে থেকে বুকে গুলি করে ফেলানীকে হত্যা করে। ৭ জানুয়ারি সকাল প্রায় ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা নাগেশ্বরীর দক্ষিণ রামখানা গ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর প্রায় ৫ ঘণ্টা ফেলানীর লাশ কাঁটাতারে ঝুলেছিল। পরে সকাল ১১টার দিকে লাশ খুলে নিয়ে যায় বিএসএফ।
অধিকারকে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম জানান, বিএসএফের কাছ থেকে লাশ ফিরে পেলেও ফেলানীর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ফেরত পাননি তিনি। ফেলানীর মা নিজ হাতে মেয়ের বিয়ের গয়না পরিয়ে দিয়েছিলেন। সীমান্ত অতিক্রমকালে ফেলানীর কানে দুল, নাকে নোলক এবং হাতে সোনার চুড়ি ছিল। অল্প অল্প করে জমানো টাকা দিয়ে মেয়ের বিয়ের জন্য গয়না তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিএসএফের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অকালে প্রাণ হারালো ফেলানী। এ ঘটনার পর নুরুল ইসলাম অধিকারকে বলেন, তিনি আর ভারতে যেতে চান না এবং তার স্ত্রী ও অন্য সন্তানদের বাংলাদেশে এনে এখানেই বসবাস করতে চান।
কাশিপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আবদুল জব্বার বলেন, বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ কিশোরী ফেলানীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনার জন্য বিএসএফ কোনোরকম দুঃখ প্রকাশ করেনি।
২৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুর রাজ্জাক তরফদার জানান, বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনায় বিএসএফের কাছে এ ব্যাপারে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। এটি শুধু আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয় বরং মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন।
ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম অধিকারকে বলেন, তিনি ভারতের আসামের বংগাইগাঁও, টুনিয়াপাড়া, ভাওয়ালকুড়ি নামের জায়গায় তার স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ৩ ছেলে নিয়ে বসবাস করতেন। ৬ সন্তানের মধ্যে ফেলানী ছিল সবার বড়। নুরুল ইসলাম বাবার মৃত্যুর পর তার মা ও তিন ছেলেকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। অভাব-অনটনের কারণে নুরুল ইসলাম অনেক ছোট বয়সে আসামে চলে যান। সেখানে তিনি রিকশা চালিয়ে, ইটভাটায় কাজ করে জীবনযাপন করতেন। পরে নিজের দেশে কুড়িগ্রামে এসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে আসামের বংগাইগাঁওয়ে চলে যান। সেখানেই তার সব সন্তানের জন্ম হয়। সেখানে তার একটি পানের দোকান আছে, যা তার স্ত্রী পরিচালনা করেন। ঘটনার প্রায় ৫-৬ মাস আগে নুরুল ইসলাম বাংলাদেশে এসে তার বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক করেন লালমনিরহাটের কুলাঘাটে ফেলানীর খালাতো ভাই মো. আমজাদ আলীর সঙ্গে। ছেলে ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করেন। বিয়ের দিন ছিল ৮ জানুয়ারি ২০১১। মেয়ের বিয়ের জন্য ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশে মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত পারাপারের জন্য তিনি ভারতীয় চোরাকারবারি মোশারফ হোসেন ও বুজরতের সঙ্গে ভারতীয় ৩০০০ রুপিতে চুক্তি করেন। এর জন্য তিনি ও তার মেয়ে ফেলানী গত ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মোশারফের বাড়িতে আসেন। এরপর রাত ১টায় মোশারফ তাদের নিয়ে কিতাবেরকুঠি সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের কাছাকাছি চলে আসে কিন্তু সুযোগ না পাওয়ায় চোরাকারবারি তাদের পারাপার করাতে দেরি করে। এভাবে সময় পার হতে থাকে এবং ভোর হতে শুরু করে। ফজরের নামাজের আজানের পর চোরাকারবারি মোশারফ নুরুল ইসলামকে সীমান্ত অতিক্রম করতে বলে। কিন্তু এ সময় তিনি পার হতে অনীচ্ছা প্রকাশ করলেও চোরাকারবারি মোশারফ তাদের জোর করেই মইয়ের মাধ্যমে কাঁটাতারের বেড়া পার করানোর উদ্যোগ নেয়। নুরুল ইসলাম বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও মোশারফ তাকে ঠেলে মইয়ে তুলে দেয়। তা না হলে তিনি আর কাঁটাতারের বেড়া পার হতে পারবেন না এবং তার টাকাও ফেরত দেয়া হবে না। একরকম বাধ্য হয়েই তিনি ফেলানীকে সঙ্গে নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করতে বাঁশের মইয়ে ওঠেন। নুরুল ইসলাম সফলভাবে কাঁটাতার পার হয়ে মইয়ের অপরপ্রান্তে চলে আসতে পারলেও ফেলানী মইয়ের মাঝপথে এলে একপর্যায়ে তার জামা কাঁটাতারের সঙ্গে আটকে গেলে সে ভয়ে চিত্কার শুরু করে। চিত্কারের শব্দ শুনে পাশে টহলরত বিএসএফ সদস্য কাঁটাতারের বেড়ার কাছে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি ফেলানীর ডান বুকের ওপরের দিকে বিদ্ধ হলে ফেলানী কাঁটাতারের মধ্যে ঝুলে পড়ে। এ সময় নুরুল ইসলাম জীবন বাঁচাতে হামাগুড়ি দিয়ে মই থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কাঁটাতারের আঁচড়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তিনি চিত্কার করে মেয়েকে ডাকতে থাকেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকেও গুলি করতে উদ্যত হলে তিনি জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন এবং কিছুদূর গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
কাশিপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আবদুল জব্বার অধিকারকে জানান, গত ৭ জানুয়ারি আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে সংঘটিত ফায়ারের পরপরই অনন্তপুর বিওপির বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে বিজিবি সদস্যরা তত্ক্ষণাত্ ফেলানীর লাশ দেখতে পায়নি। পরে সকাল ১০টা ৩০টার দিকে বিজিবি টহল দল কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে নিহত ফেলানীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। ওইদিন সকাল ১০টা ৫০টার সময় বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া থেকে নিহত ফেলানীর লাশ সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য ভারতের কুচবিহারে নিয়ে যায়। আনুমানিক সকাল ১১টায় কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. আবদুল জব্বার নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ ফেরত চেয়ে বিএসএফের কাছে চিঠি পাঠান এবং তাদের পতাকা বৈঠকে বসার অনুরোধ জানান। কিন্তু বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ৮ জানুয়ারি সকাল ১১টায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক শুরু হয় এবং সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে পতাকা বৈঠক শেষে বিএসএফ প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর নিহত ফেলানীর লাশ হস্তান্তর করে। পতাকা বৈঠকে তার নেতৃত্বে অনন্তপুর বিওপি ইনচার্জ হাবিলদার সানাউল্লাহসহ ১৩ জন বিজিবি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার রামব্রীজ রায়। এ সময় ভারতীয় পুলিশসহ ৩০ জন বিএসএফ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানার এসআই নুরুজ্জামান অধিকারকে বলেন, বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠককালে তিনি উপস্থিত থেকে ভারতীয় সংশ্লিষ্ট পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে লাশ গ্রহণ করেন। পরে এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০১/১১, তারিখ ০৮/১/১১ইং সময়-১৩.২৫ ঘটিকা।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতলের আরএমও ডা. মো. নজরুল ইসলাম অধিকারকে বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে লাশের ময়নাতদন্ত করেছে। ৯ জানুয়ারি হাসপাতাল লাশটি পাওয়ার পর ৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দল গঠন করা হয়। দুপুর ২টায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ১টি গুলি ফেলানীর বুকের ডানদিকে বিদ্ধ হলে গুলিটি ফেলানীর পাঁজরের পেছন দিয়ে বের হয়ে যায় বলে তিনি জানান।
২৭ বিজিবি ব্যাটালিনের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুর রাজ্জাক তরফদার অধিকারকে জানান, লাশটি একজন বাংলাদেশীর এটা জানার পর ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচ মানিদ্র সিংয়ের সঙ্গে ৭ জানুয়ারি আনুমানিক ১২টায় টেলিফোনে কথা বলে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী কিশোরীকে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং লাশ ফেরত দেয়ার জন্য কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে সহযোগিতা দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান। উভয়পক্ষের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ কর্তৃক সংঘটিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৭৪ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করে। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক প্রতিনিয়ত বাংলাদেশীদের হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। অধিকার দাবি জানাচ্ছে, সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং যে কোনো ঘটনার তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ভারতীয় সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে

Saturday, 22 January 2011

বাংলাদেশী শিশুকে হত্যা ভারতের আগ্রাসী চরিত্রের প্রকাশ : ন্যাপ

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি বলেছেন, দেশ এখন কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকিসহ জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির বিরুদ্ধে সরকার নতুন নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তিনি কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ী সীমান্তে বিনা উস্কানিতে বিএসএফ বাবার সামনে মেয়ে ফেলানীকে হত্যার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনা ভারতের আগ্রাসী চরিত্র ও সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পরিচয় বহন করে।
গতকাল সকালে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ (ন্যাপ) ঢাকা মহানগর আয়োজিত ‘মহাজোট সরকারের দুই বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক আনছার রহমান শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। মহানগর সদস্য সচিব মো. শহীদুন্নবী ডাবলুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত বারুরি, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, দফতর সম্পাদক মো. নুরুল আমান চৌধুরী টিটো, আহসান হাবিব খাজা, মল্লিক আবদুস সোবহান, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, সুলতানা সাঈদা শিল্পী, মোহাম্মদ কামালউদ্দীন, শাহ্ মো. শাহ্ আলম, বাহাদুর শামিম আহমেদ পিন্টু, মো. ওয়াজিউল্লাহ প্রমুখ।

সীমান্তে মানুষ হত্যায় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের নিন্দা

স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন ও মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইকবাল এক বিবৃতিতে সীমান্তে বিএসএফ-এর অব্যাহত নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানীকে বিএসএফ নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে বর্বরতার পরিচয় দিয়েছে। ফেলানীর মতো এভাবে প্রতিনিয়তই একের পর এক বাংলাদেশীদের হত্যা করা হচ্ছে। আওয়ামী মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত দুই বছরে প্রায় পৌনে ২শ’ বাংলাদেশী নাগরিককে ভারতীয় বিএসএফ নির্মমভাবে হত্যা করেছে। শুধু গত বছরই প্রায় ১শ’ মানুষকে হত্যা করেছে এই হানাদার ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী। তারা আমাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে। প্রতিনিয়ত নিরীহ নাগরিকদের ধরে হয় নির্যাতন না হয় হত্যা করছে। কেউ অন্যায় করলে তার বিচার হতে পারে। কিন্তু নির্মমভাবে পাখির মতো গুলি করে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যার মাধ্যমে বিএসএফ সব ধরনের সীমান্ত আইন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লংঘন করে চলছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, বিএসএফ এতটা নির্দয়, নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করে চললেও দেশের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকার এর কোনো প্রতিবাদ করছে না। এ থেকে প্রশ্ন জাগে আমরা কী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হারিয়েছি? আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করে পিণ্ডি থেকে দেশ স্বাধীন করেছি দিল্লির কাছে সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার জন্য নয়। তারা বিএসএফ-এর এসব গর্হিত কর্ম এবং হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং সরকার যাতে বিষয়টি গুরুত্ব অনুধাবন করে কূটনৈতিক ফোরামে আলোচনাসহ প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সে আহ্বান জানান।

রাজশাহী সীমান্তে গুলি করে দুই বাংলাদেশীকে মেরেছে বিএসএফ


রাজশাহী অফিস

রাজশাহীর মতিহার থানা এলাকার খানপুর সীমান্তে শনিবার রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ গুলি করে দুই বাংলাদেশীকে মেরেছে। নিহতরা হলেন সিরাজুল ইসলাম ও জাহেদ উদ্দিন। বিএসএফ সদস্যরা নিহতদের লাশ ফেরত দেয়নি। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভূগলঘরির জগন্নাথপুর এলাকায় বলে জানা গেছে।
মতিহার থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, বিএসএফ সদস্যরা দুই বাংলাদেশী হত্যা করেছে বলে খবর পেয়েছি। বিজিবি নিহতদের লাশ ফেরত চাইলে বিএসএফ তা দিতে অস্বীকার করে। এ ব্যাপারে বিজিবি’র কাছ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে বিজিবি’র একটি সূত্র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, লাশ ফেরত পেতে গতকাল বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ফেলানির লাশ ফেরত দিয়েছে বিএসএফ : বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল আজ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কিশোরী ফেলানির লাশ গতকাল ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল সে।
শুক্রবার ভোরে ফুলবাড়ী সীমান্তে উত্তর অনন্তপুর হাজীটারী গ্রামের আন্তর্জাতিক পিলার ৯৪৭/৩ এস পিলারের পাশে তাকে আটক করে পাশবিক নির্যাতন শেষে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। গতকাল বেলা ১১টায় ওই সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশী মেয়ে ফেলানির লাশ হস্তান্তর করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার এ পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিজিবি কাশিপুর কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আবদুল জব্বার ও ভারতীয় বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার রাম ব্রিজ রায়।
জানা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা দক্ষিণ রামখানা গ্রামের নূরু মিয়া তার ষোড়শী কন্যা ফেলানিকে নিয়ে ভারতের আসাম থেকে গত শুক্রবার আসার সময় ৯৪৭/৩ এস আন্তর্জাতিক পিলারের ভারতীয় অভ্যন্তরে চৌধুরীহাট বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যদের নজরে পড়েন। নূরু মিয়া পালাতে সক্ষম হলেও ষোড়শী কন্যা বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। বিএসএফ ওই ষোড়শী কন্যাকে পাশবিক নির্যাতন শেষে ভোরবেলা গুলি করে হত্যা করে। সকালে তার লাশ কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। উল্লেখ্য, ফেলানির সঙ্গে তার আপন খালাতো ভাই লালমনিরহাট জেলার চরকুলাঘাট গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে আমজাদ আলীর (২২) বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আজ। কিন্তু পাষণ্ড বিএসএফ ফেলানিকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে দেয়নি।

Saturday, 8 January 2011

কাঁটাতারে আটকেপড়া কিশোরীকে গুলি করে মারল বিএসএফ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

বিএসএফের গুলিতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে গতকাল এক বাংলাদেশী কিশোরী নিহত হয়েছে। ওই কিশোরীর নাম ফেলানী (১৫)। নিহত ফেলানী হলো নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা বানারভিটা গ্রামের নুরু মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় বিডিআর কড়া প্রতিবাদ ও লাশ ফেরত চেয়ে বিএসএফকে একটি চিঠি দিয়েছে। বর্তমানে ওই সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সীমান্তবাসী এবং বিডিআর সূত্রে জানা গেছে, সাত/আট বছর আগে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীর কবলে পড়ে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন নিহতের বাবা নুরু মিয়াসহ অন্য সদস্যরা। সেখানে বেশ কিছুদিন থাকার পর দালালদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে দিল্লিতে ইটভাটার কাজে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন ইটভাটার কাজে নিয়োজিত থাকার পর বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার জন্য চৌধুরীহাট খেতাবের কুটি সীমান্তের ৯৪৭-এর থ্রি-এস পিলার সন্নিকটে আশ্রয় নেন তারা। গতকাল ভারতীয় চোরাকারবারিদের অর্থের বিনিময় সহযোগিতা নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া বাঁশের সাহায্যে টপকিয়ে আসার পথে ভোর সোয়া ৬টার সময় টহলরত বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ফেলানী। এ সময় তার লাশ কাঁটাতারে ঝুলে থাকলেও অন্য সদস্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
এদিকে গুলির শব্দ ও নিহতের খবর পেয়ে অনন্তপুর বিওপির বিডিআর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বাংলাদেশী জনসাধারণকে উত্তেজিত না হওয়ার জন্য বাধা দেন। উত্তর অনন্তপুর সীমান্তের আবু রায়হান জানান, ভোরবেলা তিনি নুরু মিয়াকে রক্তমাখা দেখে চমকে ওঠেন এবং তার কাছ থেকে জানতে পারেন বিএসএফের গুলিতে তার মেয়ে নিহত হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটির লাশ নিয়ে আসতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মেয়েটি আর্তচিত্কার শুরু করে এবং বাঁচাও বাঁচাও চিত্কার দিয়ে আধা ঘণ্টা পর অচেতন হয়ে পড়ে। পরে বিএসএফ সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে নিয়ে যায়। কাশিপুর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার আ. জব্বার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাশ ফেরত চেয়ে বিএসএফের কাছে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

Friday, 7 January 2011

টিপাইমুখের পর সুবনশিরি বাঁধ

ইলিয়াস খান

টিপাইমুখের পর এবার সুবনশিরি বাঁধ। বাংলাদেশের জন্য নতুন মরণফাঁদ। সিলেট সংলগ্ন ভারতের আসাম রাজ্যের সুবনশিরি নদীতে এই বাঁধ নির্মিত হচ্ছে জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য। বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এই এলাকায় বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে খোদ ভারতের পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং সমাজকর্মীরা বলেছেন, ‘টিপাইমুখ ও সুবনশিরিসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নির্মীয়মাণ বৃহত্ নদী বাঁধ প্রকল্পগুলো বরাক-ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ও বাংলাদেশের জন্য হিরোশিমা-নাগাসাকি ধ্বংসকারী আণবিক বোমার সমান এক জলবোমা।’
আসাম ট্রিবিউন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের ন্যাশনাল হাইড্রো পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি) সুবনশিরি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করেছে। এতে বলা হয়, ‘এই বাঁধ নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় এখনও নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি।’
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসাম-অরুণাচল সীমান্তে ২০১১-১২ সালের মধ্যে এই বাঁধ নির্মাণ করার কথা। এখানে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হবে। প্রকল্পব্যয় আগের ৬ হাজার ২৮৫ কোটি রুপি থেকে ৮ হাজার ১৫৫ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। প্রসঙ্গত এই বাঁধ নির্মাণের জন্য ২০০৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর নদীশাসন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রচণ্ড বিক্ষোভের কারণে আসাম রাজ্য সরকার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করছে না।
জানা গেছে, এ প্রকল্পের কুফল তুলে ধরে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘আরণ্যক’ গত ডিসেম্বরে গৌহাটিতে ‘উত্তর-পূর্ব জলবিবাদ, সমস্যা ও সমাধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় ভারতের পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং সমাজকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দু’দিনব্যাপী এ আলোচনা সভায় সব বিশেষজ্ঞই স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সুবনশিরি জলবিদ্যুত্ প্রকল্প ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সর্বনাশ ঘটাবে আর টিপাইমুখ গোটা বরাক উপত্যকাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।’ আলোচনায় ড. পার্থজ্যোতি দাস, কে জে জয়, অধ্যাপক এসি ভাগবতী, ড. চন্দন মোহন্ত, অধ্যাপক দুলালচন্দ্র গোস্বামী, অধ্যাপক এস জনকরাজন, বাস্তুকার নীরজ ভাগলিকর, রবীন্দ্রনাথ, গিরীন চেতিয়া, ড. নিম্মি কুরিয়ান, অজিত পাটোয়ারী, ড. সিদ্ধার্থ কুমার, ড. আর কে রঞ্জন, রাজু নেপচা, শ্যামল দত্ত, ড. সঞ্জিতা বড়ুয়া, ড. ননী গোপাল মোহন্তসহ বহু বিজ্ঞানী ও পরিবেশকর্মী বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম এবং মেঘালয়ে ছোট-বড় জলবিদ্যুত্ প্রকল্প নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক জলবায়ুর লক্ষণীয় পরিবর্তন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। তারা বলেন, এসব প্রকল্প একদিকে যেমন বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ধ্বংস করছে, তেমনি জনবসতি বিন্যাস বদলে দিচ্ছে ও উষ্ণায়ন ঘটাচ্ছে। ছোট-বড় অসংখ্য জলাধার, বন ও কৃষিজমির সঙ্কোচন ঘটাচ্ছে। বনাঞ্চল সঙ্কুচিত হওয়ায় বন্য জন্তু-জানোয়ার, কীটপতঙ্গ ও সরীসৃপের জন্য এসব প্রকল্প হুমকি হয়ে উঠেছে।
বৃহত্ জলবিদ্যুত্ প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সব বক্তাই এসব প্রকল্প স্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ভূমিকম্পপ্রবণ এ এলাকায় সুবনশিরি ও টিপাইমুখের মতো যেসব প্রকল্প নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে, তার সোজা অর্থ হলো এসব প্রকল্প হাতে নিয়ে বিশাল ভাটি অঞ্চল বরাক-ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা আর বাংলাদেশের মাথার ওপর কয়েক ডজন হিরোশিমা-নাগাসাকি ধ্বংসকারী বোমার সমান জলবোমা তৈরি করে রাখা হচ্ছে। অন্য বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো না ঘটানো মানুষের ইচ্ছাধীন হলেও এসব জলবোমা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই। সামান্য মাত্রার ভূমিকম্প বা ভূমিধসের ফলে এসব বাঁধ মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। আর তখন চোখের পলকে ভাটি আসাম-বাংলাদেশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
তারা জানান, একেকটি প্রকল্প নির্মাণের জন্য লাখ লাখ ব্যাগ সিমেন্ট প্রয়োজন হবে। এসব সিমেন্ট তৈরির জন্য নষ্ট হবে পাহাড়। লাখ লাখ লরি পাথরের জন্য একইভাবে পাহাড় কাটা হবে। বাঁধ নির্মাণের সময়ও পাহাড় কাটা হবে। একদিকে বিশাল জলাধার শত শত বর্গমাইল এলাকা পানিতে ডুবিয়ে নষ্ট করবে; অন্যদিকে পাথর-সিমেন্ট আর মাটি সরবরাহের জন্য নষ্ট হবে পাহাড়। এসব বাঁধ নির্মাণকালেই ভাটি এলাকার খাল-বিল, নদী-নালা, কৃষিজমি বালু আর পাথরে ভরে যাবে। কৃষিজমি নষ্ট হবে। খাল-বিলে পানি থাকবে না। জনবিন্যাস, জনবসতির অবস্থান বদলে যাবে। বক্তারা এসব বিস্তৃত ব্যাখ্যা করে আসাম রাজ্যের উভয় উপত্যকাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে কোনোভাবে টিপাইমুখ, সুবনশিরিসহ সব বৃহত্ নদীবাঁধ প্রকল্প প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, আসাম-অরুণাচলের সর্বস্তরের মানুষ এ প্রকল্প বন্ধের দাবি জানালেও বাঁধ নির্মাণে বদ্ধপরিকর দিল্লি। ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিক অথরিটি আসাম সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ও ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। দিল্লি তাতে কর্ণপাত করেনি। ঢাকা থেকে একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দলও দিল্লি সফরে যায়। বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞানী ও পানি বিশেষজ্ঞদের মতামতের কোনো গুরুত্ব না দিয়ে এই প্রতিনিধিরা প্রমোদ ভ্রমণ শেষ করে দেশে ফিরে আসেন এবং ভারতের পক্ষে রিপোর্ট দেন।