ভারতের চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে হলো বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তের ৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অনুমতি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আদায় করে নিল ভারত। প্রথমে বিডিআর এ কাজে বাধা দিলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে কেবল তারা সরেই আসেনি, মাপজোক করে স্থাপনা তৈরির জন্য বিএসএফকে জায়গাও বুঝিয়ে দিয়ে এসেছে। এর আগে বিএসএফ বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে জোরপূর্বক কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেও এই প্রথম সীমান্তে বেআইনি স্থাপনা নির্মাণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিডিআর আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিল।
এ ছাড়া সীমান্তের ৪৬টি পয়েন্টে বাংলাদেশের ভূমিতে ঢুকে বেড়া নির্মাণ করার আবদার তুলেছে ভারত। এজন্য বাংলাদেশের ওয়ার্কিং টিম সরেজমিন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। কমিটি ৬টি শর্তসাপেক্ষে সীমান্তের ১২টি পয়েন্টে বাংলাদেশের জমিতে বেড়া নির্মাণ করতে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শর্তগুলো হলো, তিনবিঘা করিডোর ইস্যু নিষ্পত্তি করা, ৩২টি ফেনসিডিল কারখানা সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া, ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান, পঞ্চগড় ও বাংলাবান্ধায় পর্যটন সুবিধা দেয়া, দুই দেশের যৌথ সিদ্ধান্তে লক্ষ্মীপুরে নির্মিত ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং অপদখলীয় ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান। অথচ এসব ইস্যুর সমাধান ছাড়াই বাংলাদেশ একের পর এক ছাড় দিয়ে চলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আমাদের আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিএসএফ আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অমান্য করে আখাউড়া সীমান্তের ২০১৯ মেইন পিলারের সাব পিলার ৯ এস ও ১০ এস পিলারের মাঝামাঝি আজমপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করছিল। গত শুক্রবার দুপুরে বিএসএফ বেড়া নির্মাণ করতে এলে বিডিআর যথারীতি বাধা দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। আখাউড়া সীমান্তের ওপারে আগরতলা বিমানবন্দর। ওই বিমানবন্দরের নিরাপত্তার নামে বিএসএফ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ৫০ গজের মধ্যে বেড়া নির্মাণের জন্য অনেক দিন থেকেই চেষ্টা করে আসছিল; কিন্তু বিডিআরের তীব্র বাধার মুখে তা বার বার ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত গতকাল বিডিআরকে হার মানতে হয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ১৫০ গজের মধ্যে দুই দেশের কেউ কোনো স্থাপনা তৈরি করতে পারে না। আজমপুরে বেড়া নির্মাণের ব্যাপারে নজিরবিহীন ও বেআইনি সমঝোতার বিষয়টি দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত মতে হয়েছে বলে বিডিআর সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বেড়া নির্মাণ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় বিডিআর-বিএসএফের পতাকা বৈঠক শুরুু হয়। সকাল সাড়ে এগারটায় বৈঠক শেষে বিডিআর ১ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মাসরুুর আহম্মেদ শিহাব বলেন, কোন জায়গায় বিএসএফ বেড়া নির্মাণ করবে তা মাপজোক করে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
রাইফেলস ব্যাটালিয়ন ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু সালেহ বলেন, সরকারের অনুমতি রয়েছে আজমপুর সীমান্তের ওপারে বিএসএফ ৫০ থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে পারবে।
বৈঠকে বিডিআরের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন উপ-অধিনায়ক মেজর মাসরুর আহম্মেদ শিহাব। অপরদিকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফ ৬ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক লে. কর্নেল সঞ্জয় চৌহান। বর্তমানে সেখানকার সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/10/17/49187
Sunday, 17 October 2010
সিরাজগঞ্জ ট্র্যাজেডি : চালক রাজ গোবিন্দ কিছুদূর গিয়ে কেন ট্রেনটি থামিয়ে দিলেন

চালক আছিরউদ্দিনকে বসিয়ে রেখে ট্রেনটি চালাচ্ছিলেন সহকারী চালক রাজ গোবিন্দ। গেটম্যান হীরামন দাস জনসভার মধ্যেই সবুজ পতাকা উড়িয়ে ট্রেনটি সামনে যাওয়ার সঙ্কেত দিলেন। ট্রেনের গার্ড ছিলেন জ্যোতিন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ঘটনার পুলিশি তদন্ত করছেন জিআরপি থানার ওসি বিমল কুমার চাকী। তিনি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রাজ গোবিন্দের সাক্ষ্য নিয়েছেন। মামলার বাদী হয়েছেন জেএন মুখার্জী। কমিটির প্রধান হিসেবে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপক রঞ্জন অধিকারী ঘটনার তদন্ত করছেন। দুর্ঘটনার পর রাজশাহীর অতিরিক্ত কমিশনার স্বপন কুমার রায় ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।
চালক আছিরউদ্দিনকে বসিয়ে রেখে দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালাচ্ছিলেন সহকারী চালক রাজ গোবিন্দ। সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ মুলিবাড়ি রেলগেটের গেটম্যান ছিল হীরামন দাস। গার্ড ছিল জ্যোতিন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। সামনেই বিএনপির জনসভা। লোকে লোকারণ্য। ওই জনসভার মধ্যেই হীরামন দাস সবুজ পতাকা উড়িয়ে ট্রেনটি সামনে যাওয়ার সঙ্কেত দিলেন। রাজ গোবিন্দ হুইসেল না বাজিয়ে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেনটি নিয়ে এগোতে থাকলেন সামনের দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জনসভা জেনেও হুইসেল না বাজিয়ে দ্রুতগতিতে ট্রেনটি নিয়ে সামনে এগুনোতেই দেখা দেয় বিপত্তি। ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন ৭ জন। আহত অনেক। এরই মধ্যে চালক গোবিন্দ রাস্তা ফাঁকা পেয়েও ট্রেন চালিয়ে সামনে এগিয়ে নেননি। দুর্ঘটনাস্থলের কিছুদূর গিয়েই হঠাত্ থামিয়ে দেন ট্রেনটি। তিনি জানতেন ট্রেনটি থামালে পড়তে হবে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে। তবুও ট্রেনটি থামিয়ে দিলেন তিনি। যার ফলে সমাবেশে যোগ দেয়া হতাহতদের সঙ্গী-সাথীদের রোষানলে পড়ে ট্রেনটি। ধরিয়ে দেয়া হয় আগুন।
এই ঘটনায় মৃত্যুর দায় নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন উঠবে। খালেদা জিয়ার সভাস্থলের পাশে ট্রেনে কাটা পড়ার পর বিএনপির ৭ কর্মী নিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। এতেও জন্ম দেয় নানা প্রশ্নের। দুর্ঘটনার পর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দায়ী করে মামলা, সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা রহস্যের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এত বিশাল সমাবেশের খবর জেনেও মুলিবাড়ি গেটম্যান হীরামন দাস ট্রেনটিকে হলুদ পতাকা দেখিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলার পরামর্শ দেননি। সহকারী চালক রাজ গোবিন্দ ট্রেনটি ধীরে না চালিয়ে হুইসেল না বাজিয়ে দ্রুত চালিয়ে নেন। এরই মধ্যে বেশকিছু মানুষ কাটা পড়ে। লোকজন রেল লাইন থেকে হুড়োহুড়ি করে সরে যাওয়ার পর তিনি থামিয়ে দেন ট্রেনটি। এতে পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়, উদ্দেশ্যমূলকভাবেই ট্রেনটি জনসভার ওপর দিয়ে চালিয়ে নেয়া হয়েছে। আবার সামনে রাস্তা পরিষ্কার পেয়ে সেটি পরিকল্পিতভাবে থামানো হয়। যার ফলে সমাবেশে আসা লোকজনের রোষানলে পড়ে ট্রেনটি। যার থেকে ঝরে যায় ৭টি তাজা প্রাণ। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় ট্রেনটিতে। গত সোমবার তাদের গণপিটুনি ও আগুনে ট্রেনের চালকসহ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাব-পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে চালানো হয় রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ও গুলি।
দুর্ঘটনার পর সিরাজগঞ্জ থেকে দমকল বাহিনীর একটি গাড়ি ছুটে এলে জনতা তাদের ওপরও হামলা চালায়। পুলিশ এসময় টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। খালেদা জিয়া পৌনে ৪টায় সমাবেশস্থলে এসে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যকালে মঞ্চের পেছনে প্রায় ১২ গজের মধ্যে লতিফের লাশ ও ট্রেন লাইনে কাটা একটি মানুষের পা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রেনে থাকা বগুড়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার বেনজিরুল ইসলাম বলেন, তার চোখের সামনে ৪ জন মারা গেছেন। চালক ও গেটম্যান ইচ্ছা করলে ট্রেনটি থামাতে পারতেন। হুঁইসেল বাজিয়ে ধীরেসুস্থে ট্রেনটি নিয়ে পার হতে পারতেন তারা। কিন্তু তা না করে দ্রুত ট্রেন চালানোতেই এই বিপত্তি। কিন্তু যখন একের পর লোক ট্রেনে কাটা পড়ছে তখন ইচ্ছে করলেও ট্রেনটি থামানো সম্ভব হতো না। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, পরে ট্রেনটি থামিয়ে ট্রেনটিতে নাশকতা চালানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
যদিও বলা হচ্ছে মৃত্যুগুলো হয়েছে দুর্ঘটনায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেটার জন্য দায়ী কারা? রেললাইনের পাশে জনসভার স্থান নির্ধারিত না হলে হয়তো দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। যোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন, ‘অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বিরোধী দল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোয় সিরাজগঞ্জে ট্রেন দুর্ঘটনা এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।’
যোগাযোগমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর ওই ঘটনা নিয়ে আরও কতগুলো গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্ক হচ্ছে, এটি কি স্রেফ দুর্ঘটনা, না পরিকল্পিত দুর্ঘটনা। এর সঙ্গে দায়িত্বহীনতাও রয়েছে কিনা সে প্রশ্নও উঠেছে। শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে বিরোধীদলীয় নেত্রীর জনসভাটি হওয়ার কথা ছিল উল্লাপাড়ায়। বিএনপির সমাবেশ ঘোষণার পর সেটাকে প্রতিহত করতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ একই স্থনে সমাবেশ ডাকে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সয়দাবাদে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়। ক্ষমতাসীন দল থেকে উল্লাপাড়ায় বিএনপির জনসভা প্রতিহত করার ডাক না দিলে সয়দাবাদকে জনসভার স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হতো না বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। এরপরও এই জনসভার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা যোগাযোগ সচিবকেও জানানো হয়। অর্থাত্ খালেদা জিয়ার জনসভার বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবগত ছিল। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র সহকারী সচিব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। যোগাযোগ মন্ত্রণালরের কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়নি। আবার রেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জানে না জনসভার বিষয়টি। সবকিছুতেই এক ধরনের অস্পষ্টতা। তাছাড়া কেন নির্ধারিত স্থানে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি এর জবাবে কী বলবেন যোগাযোগমন্ত্রী?
প্রশ্ন উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনই বা এমন জায়গায় সমাবেশের অনুমতি দিল কীভাবে, যার ওপর দিয়ে ট্রেন চলে? শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য থাকার কথা পুলিশের। রেল কর্তৃপক্ষেরও সজাগ থাকার কথা যে, হাজার হাজার লোকের মাঝ দিয়ে ট্রেন নিতে হলে আগাম সতর্কতা লাগবেই। যারা দেশ চালান, যারা দল চালান বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কিংবা ট্রেনের চালক—তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার ছিটেফোঁটা হলেও থাকা উচিত। অনেকের জানমালের দায়িত্ব তাদের ওপর। এ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে চালানোর ক্ষমতা যতটা উপভোগ করেন, দায়িত্বটা ততটাই ভুলে যান।
জনসভাস্থলের দুই কিলোমিটারের মধ্যে দুটি রেলস্টেশন থাকায় ট্রেনের গতিবেগ কম থাকার কথা। কিন্তু ট্রেনটির সহকারী চালক রাজ গোবিন্দ দাস বলেছেন, তিনি জনসভার বিষয়টি একেবারেই অবগত ছিলেন না। ফলে স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চালিয়েছেন। এ দিন ট্রেনের চালক আছিরউদ্দিন ট্রেনে থাকলেও তা চালাচ্ছিলেন সহকারী চালক রাজ গোবিন্দ দাস। রাজ গোবিন্দ বলেছেন, ভ্যাকুয়াম পাইপলাইন ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে তিনি ট্রেনটি থামিয়েছেন। লোকগুলো ট্রেনে কাটা পড়ার পর ভ্যাকুয়াম পাইপলাইন ছিঁড়ে গেল, আর সময় পেল না। এটাও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। ট্রেনটি জনসভাস্থল অর্থাত্ দুর্ঘটনার পর কেন থামানো হয়েছিল তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। কারণ এ ধরনের ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও রেলস্টেশন ছাড়া ট্রেন রাস্তায় থামিয়ে দেয়ার নজির নেই। গেটম্যান হীরামন দাস নীরব থেকেই ট্রেন থামানোর সিগন্যাল দেননি। ট্রেনটি দুর্ঘটনার পর থামানোর ফলে ক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। জিআরপি থানার ওসি বিমল কুমার চাকী এরই মধ্যে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রাজ গোবিন্দের সাক্ষ্য নিয়েছেন। এ দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। জিআরপি থানার মামলার বাদী হয়েছেন ওই ট্রেনের গার্ড জে এন মুখার্জী। মামলার পর গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়।
এ ঘটনা তদন্তে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপক রঞ্জন অধিকারীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তদন্ত সুষ্ঠু হবে না। কারণ যোগাযোগ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে আগেই মন্তব্য করেছেন। তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার রাজশাহীর অতিরিক্ত কমিশনার স্বপন কুমার রায় ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/10/17/49074
Tuesday, 17 August 2010
ভারতকে ট্রানজিট দিতে অসম্ভব দ্রুততায় প্রকল্প অনুমোদন : বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন
জাহেদ চৌধুরী
ভারতকে সড়ক, রেল, নৌপথে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিশ্চিত করতে খুবই দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন করছে সরকার। গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৫০ দফা সমঝোতা স্মারকের আলোকে শিগগিরই বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং এ লক্ষ্যে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের একশ’ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত এই ঋণচুক্তির শর্ত এবং উদ্দেশ্য নিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভারত সরকারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষা করেই এরা বিভিন্ন দেশকে ঋণ দিয়ে থাকে। ঋণচুক্তির মাধ্যমে যে টাকা ধার হিসেবে পাওয়া যাবে তা চড়া সুদ ও কঠিন শর্তে মূলত ভারতের ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করতেই ব্যবহৃত হবে। প্রণব মুখার্জির সফরের সময়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার সফরের আগেই বাংলাদেশ ট্রানজিট সুবিধার কাজটি এগিয়ে নিতে চায়।
ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের দশ দিনেই মধ্যেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ভারত সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌপথ ড্রেজিংয়ের জন্য প্রায় ২১শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি ড্রেজার কেনা এবং ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির লক্ষ্যে বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য এক হাজার ৭৯ কোটি টাকার প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এসব ড্রেজার সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা সচিব হাবিব উল্লাহ মজুমদার। এর আগেই প্রণব মুখার্জির সফর শেষ হওয়ার চারদিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বেনাপোল স্থলবন্দর এবং শুক্রবার মংলা সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরকালে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতকে তাদের পণ্য নিজ দেশে নিয়ে যেতে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। ভারত চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর আমদানি-রফতানির জন্য নিজ দেশে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছে। এজন্য ত্রিপুরার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত সাবব্রুম পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং একইসঙ্গে সাবব্রুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের কাজও চলছে। বাংলাদেশ এই রুটে ভারতের ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ফেনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের অনুমতি সে দেশকে দিয়েছে। এ সেতু নির্মিত হলে সাবব্রুমের সঙ্গে রামগড়ের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সাবব্রুম থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৭৫ কিলোমিটার। এদিকে আখাউড়ায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ভারত তাদের ওডিসি (পণ্যবাহী বড় আকারে কন্টেইনার) পরিবহনের জন্য এ বন্দর ব্যবহার করবে।
এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি দিল্লি সফরে গেলে ভারতের ত্রিপুরার পালাতানায় ৭২৬ মেগাওয়াটের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে আশুগঞ্জ নদীবন্দর হয়ে ওডিসি পরিবহনের জন্য আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়কে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বাংলাদেশের সম্মতির কথা জানান। এজন্য আশুগঞ্জ নদীবন্দরকে ‘পোর্ট অব কল’ ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয়া হলেও বাংলাদেশের অবকাঠামো এখনও ওডিসি পরিবহনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এরই মধ্যে দু’দফায় আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন করে অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন দিক চিহ্নিত করেছে। বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য ভারত প্রায় ১০০টি ওডিসি বার্জে করে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আনবে। সেখান থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সড়কপথে আখাউড়ায় নেয়া হবে। আখাউড়া থেকে রেলযোগে ত্রিপুরার পালাতানায় নেয়া হবে। এজন্য আখাউড়া জংশনে দুই কিলোমিটার আগে বা পরে ত্রিপুরা সীমান্তের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। ওডিসিগুলোর বেশিরভাগই ওজন ১০০ থেকে ২০০ টনের মধ্যে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫২ টনের দুটি যন্ত্র রয়েছে। এ দুটি লম্বায় ৩০ মিটার, পাশে ৬ মিটার ও উচ্চতায় ৮ মিটার। বাংলাদেশের রাস্তায় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ১৯ মিটার বা ৪০ ফুট কন্টেইনার নিয়ে ট্রেলার চলাচল করে। তাও আবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত রাস্তায়। ওডিসি পরিবহনে সময়ের প্রয়োজন হবে এক থেকে দেড় বছর।
ওদিকে বিদ্যুতের আন্তঃদেশীয় গ্রিড লাইন স্থাপন প্রকল্পের অধীন বাংলাদেশ অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ও ভারত অংশে আরও প্রায় ৮০ কিলোমিটার গ্রিড লাইন স্থাপন করতে হবে। পুরো খরচ বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে। ভারতীয় অংশের গ্রিড লাইন স্থাপনের টাকাটি বাংলাদেশ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাজ থেকে ঋণ নিয়ে করছে। অর্থাত্ বাংলাদেশী টাকায় ভারতের ভেতর গ্রিড লাইন স্থাপন হবে। এ রকম অভূতপূর্ব শর্তের গ্রিড লাইন স্থাপন নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা ও কেবিনেট সচিব আকবর আলি খান প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এই আড়াইশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানির কথা বলে এ ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণের কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এ টাকা দিয়ে প্রায় দেড়শ’ মেগাওয়াটের বিদ্যুত্ প্লান্ট বাংলাদেশের ভেতরেই এই সময়ের মধ্যে স্থাপন করা যেত। ভারতের কাছ থেকে এক দশমিক ৭৫ ভাগ সুদ ও দশমিক ৫০ ভাগ কমিটমেন্ট সুদে নেয়া ঋণের টাকায় এরই মধ্যে চিহ্নিত ১৪টি ছোট-বড় প্রকল্পের বাংলাদেশী স্বার্থ নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ড. আকবর আলি খান বলেছেন, এর মধ্যে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জে স্থাপিতব্য টার্মিনাল, প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া হয়ে ভারত পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সাবব্রুম-রামগড় সড়ক সংস্কারে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ের কোনো প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের নেই। এগুলো স্রেফ ভারতের কাজে লাগে। এসব বন্দর ও সড়ক দিয়ে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে না।
ভারতের ত্রিপুরায় বিদ্যুত্ প্রকল্প নির্মাণে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দর দিয়ে এক একটি ২শ’ টন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওজনের বড় আকারের ওডিসি কনটেইনার পরিবহন নিশ্চিত করতে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলতে হবে। ওডিসি পরিবহনের সময় এ সড়ক দিয়ে অন্য যান চলাচল করতে পারবে না। বাংলাদেশের রাস্তায় যেখানে ৫ থেকে ২০ টন ওজনের কনটেইনার পরিবাহিত হয়ে থাকে, সেখানে এত বড় আকারের কনটেইনার পরিবহনে সড়কের বর্তমান অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বাংলাদেশ যে ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তার বিপরীতে বাংলাদেশ খুব সামান্যই শুল্ক পাবে। আর্থিক দিকটি নিশ্চিত না করেই বাংলাদেশ ভারতকে এ জাতীয় সুবিধা প্রদানে রাজি হয়েছে।
ভারতীয় ঋণের টাকায় ৬টি ড্রেজার কেনা ও হাজার কোটি টাকার বিদ্যুত্ গ্রিড প্রকল্প একনেকে অনুমোদন : ভারতের দেয়া ঋণের অর্থে প্রথম প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের আওতায় দেশের নদী খননের জন্য ৬টি ড্রেজার কিনতে ভারতীয় ঋণের ৪৭২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনা সচিব হাবিবুল্লাহ মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬টি ড্রেজার কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ সহায়তার বাইরে ১৬৭ কোটি টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। ড্রেজারগুলোর মধ্যে একটি মংলা বন্দরের জন্য, তিনটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং দুটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য।
পরিকল্পনা সচিব জানান, ২০১২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। তবে ড্রেজারগুলো কোন কোন নদীর খনন কাজে ব্যবহার করা হবে, তা জানাতে পারেননি তিনি।
গত ৭ আগস্ট ভারতের সঙ্গে একশ’ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। এই চুক্তি সইয়ের ১০ দিনের মধ্যে প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুল্লাহ মজুমদার বলেন, ঋণ সহায়তার বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আগেই প্রকল্প প্রস্তুতের জন্য সময় পাওয়া গিয়েছিল।
গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশকে একশ’ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয় ভারত।
এছাড়া একনেক সভায় ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির লক্ষ্যে ৩০ কিলোমিটার গ্রিড ইন্টারকানেকশন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এক হাজার ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৭শ’ কোটি টাকা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং ৩৭৯ কোটি টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। হাবিবুল্লাহ মজুমদার বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ভেড়ামারা থেকে ভারতের বহরমপুর সীমান্ত পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার ৪০০ কেভি গ্রিড সংযোগ লাইন নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রথম বছরে ২৫০ মেগাওয়াট এবং পরের ৩৪ বছর ৫০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুত্ আদান-প্রদান করা যাবে। ২০১২ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই বিদ্যুত্ আদান-প্রদান করা যাবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া দেশে গ্যাস সঙ্কট মেটাতে ৫টি নতুন কূপ খনন ও ১টি কূপ মেরামতের জন্য ৭৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেকে।
অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাজুরিয়া- গান্ধাসুর- সাতপাড়- পাতিয়ারা- রামদিয়া (রামদিয়াবাজার বাইপাসসহ) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচুড়িয়া -ফরিদপুর - ভাঙ্গা রেলপথ পুনর্বাসন ও নির্মাণ প্রকল্প এবং ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গোয়ালন্দ- ফরিদপুর- তাড়াইল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/08/18/39744
ভারতকে সড়ক, রেল, নৌপথে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিশ্চিত করতে খুবই দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন করছে সরকার। গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৫০ দফা সমঝোতা স্মারকের আলোকে শিগগিরই বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং এ লক্ষ্যে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের একশ’ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত এই ঋণচুক্তির শর্ত এবং উদ্দেশ্য নিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভারত সরকারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষা করেই এরা বিভিন্ন দেশকে ঋণ দিয়ে থাকে। ঋণচুক্তির মাধ্যমে যে টাকা ধার হিসেবে পাওয়া যাবে তা চড়া সুদ ও কঠিন শর্তে মূলত ভারতের ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করতেই ব্যবহৃত হবে। প্রণব মুখার্জির সফরের সময়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার সফরের আগেই বাংলাদেশ ট্রানজিট সুবিধার কাজটি এগিয়ে নিতে চায়।
ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের দশ দিনেই মধ্যেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ভারত সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌপথ ড্রেজিংয়ের জন্য প্রায় ২১শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি ড্রেজার কেনা এবং ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির লক্ষ্যে বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য এক হাজার ৭৯ কোটি টাকার প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এসব ড্রেজার সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা সচিব হাবিব উল্লাহ মজুমদার। এর আগেই প্রণব মুখার্জির সফর শেষ হওয়ার চারদিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বেনাপোল স্থলবন্দর এবং শুক্রবার মংলা সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরকালে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতকে তাদের পণ্য নিজ দেশে নিয়ে যেতে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। ভারত চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর আমদানি-রফতানির জন্য নিজ দেশে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছে। এজন্য ত্রিপুরার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত সাবব্রুম পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং একইসঙ্গে সাবব্রুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের কাজও চলছে। বাংলাদেশ এই রুটে ভারতের ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ফেনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের অনুমতি সে দেশকে দিয়েছে। এ সেতু নির্মিত হলে সাবব্রুমের সঙ্গে রামগড়ের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সাবব্রুম থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৭৫ কিলোমিটার। এদিকে আখাউড়ায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ভারত তাদের ওডিসি (পণ্যবাহী বড় আকারে কন্টেইনার) পরিবহনের জন্য এ বন্দর ব্যবহার করবে।
এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি দিল্লি সফরে গেলে ভারতের ত্রিপুরার পালাতানায় ৭২৬ মেগাওয়াটের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে আশুগঞ্জ নদীবন্দর হয়ে ওডিসি পরিবহনের জন্য আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়কে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বাংলাদেশের সম্মতির কথা জানান। এজন্য আশুগঞ্জ নদীবন্দরকে ‘পোর্ট অব কল’ ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয়া হলেও বাংলাদেশের অবকাঠামো এখনও ওডিসি পরিবহনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এরই মধ্যে দু’দফায় আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন করে অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন দিক চিহ্নিত করেছে। বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য ভারত প্রায় ১০০টি ওডিসি বার্জে করে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আনবে। সেখান থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সড়কপথে আখাউড়ায় নেয়া হবে। আখাউড়া থেকে রেলযোগে ত্রিপুরার পালাতানায় নেয়া হবে। এজন্য আখাউড়া জংশনে দুই কিলোমিটার আগে বা পরে ত্রিপুরা সীমান্তের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। ওডিসিগুলোর বেশিরভাগই ওজন ১০০ থেকে ২০০ টনের মধ্যে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫২ টনের দুটি যন্ত্র রয়েছে। এ দুটি লম্বায় ৩০ মিটার, পাশে ৬ মিটার ও উচ্চতায় ৮ মিটার। বাংলাদেশের রাস্তায় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ১৯ মিটার বা ৪০ ফুট কন্টেইনার নিয়ে ট্রেলার চলাচল করে। তাও আবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত রাস্তায়। ওডিসি পরিবহনে সময়ের প্রয়োজন হবে এক থেকে দেড় বছর।
ওদিকে বিদ্যুতের আন্তঃদেশীয় গ্রিড লাইন স্থাপন প্রকল্পের অধীন বাংলাদেশ অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ও ভারত অংশে আরও প্রায় ৮০ কিলোমিটার গ্রিড লাইন স্থাপন করতে হবে। পুরো খরচ বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে। ভারতীয় অংশের গ্রিড লাইন স্থাপনের টাকাটি বাংলাদেশ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাজ থেকে ঋণ নিয়ে করছে। অর্থাত্ বাংলাদেশী টাকায় ভারতের ভেতর গ্রিড লাইন স্থাপন হবে। এ রকম অভূতপূর্ব শর্তের গ্রিড লাইন স্থাপন নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা ও কেবিনেট সচিব আকবর আলি খান প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এই আড়াইশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানির কথা বলে এ ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণের কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এ টাকা দিয়ে প্রায় দেড়শ’ মেগাওয়াটের বিদ্যুত্ প্লান্ট বাংলাদেশের ভেতরেই এই সময়ের মধ্যে স্থাপন করা যেত। ভারতের কাছ থেকে এক দশমিক ৭৫ ভাগ সুদ ও দশমিক ৫০ ভাগ কমিটমেন্ট সুদে নেয়া ঋণের টাকায় এরই মধ্যে চিহ্নিত ১৪টি ছোট-বড় প্রকল্পের বাংলাদেশী স্বার্থ নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ড. আকবর আলি খান বলেছেন, এর মধ্যে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জে স্থাপিতব্য টার্মিনাল, প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া হয়ে ভারত পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সাবব্রুম-রামগড় সড়ক সংস্কারে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ের কোনো প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের নেই। এগুলো স্রেফ ভারতের কাজে লাগে। এসব বন্দর ও সড়ক দিয়ে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে না।
ভারতের ত্রিপুরায় বিদ্যুত্ প্রকল্প নির্মাণে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দর দিয়ে এক একটি ২শ’ টন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওজনের বড় আকারের ওডিসি কনটেইনার পরিবহন নিশ্চিত করতে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলতে হবে। ওডিসি পরিবহনের সময় এ সড়ক দিয়ে অন্য যান চলাচল করতে পারবে না। বাংলাদেশের রাস্তায় যেখানে ৫ থেকে ২০ টন ওজনের কনটেইনার পরিবাহিত হয়ে থাকে, সেখানে এত বড় আকারের কনটেইনার পরিবহনে সড়কের বর্তমান অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বাংলাদেশ যে ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তার বিপরীতে বাংলাদেশ খুব সামান্যই শুল্ক পাবে। আর্থিক দিকটি নিশ্চিত না করেই বাংলাদেশ ভারতকে এ জাতীয় সুবিধা প্রদানে রাজি হয়েছে।
ভারতীয় ঋণের টাকায় ৬টি ড্রেজার কেনা ও হাজার কোটি টাকার বিদ্যুত্ গ্রিড প্রকল্প একনেকে অনুমোদন : ভারতের দেয়া ঋণের অর্থে প্রথম প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের আওতায় দেশের নদী খননের জন্য ৬টি ড্রেজার কিনতে ভারতীয় ঋণের ৪৭২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনা সচিব হাবিবুল্লাহ মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬টি ড্রেজার কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ সহায়তার বাইরে ১৬৭ কোটি টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। ড্রেজারগুলোর মধ্যে একটি মংলা বন্দরের জন্য, তিনটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং দুটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য।
পরিকল্পনা সচিব জানান, ২০১২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। তবে ড্রেজারগুলো কোন কোন নদীর খনন কাজে ব্যবহার করা হবে, তা জানাতে পারেননি তিনি।
গত ৭ আগস্ট ভারতের সঙ্গে একশ’ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। এই চুক্তি সইয়ের ১০ দিনের মধ্যে প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুল্লাহ মজুমদার বলেন, ঋণ সহায়তার বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আগেই প্রকল্প প্রস্তুতের জন্য সময় পাওয়া গিয়েছিল।
গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশকে একশ’ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয় ভারত।
এছাড়া একনেক সভায় ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির লক্ষ্যে ৩০ কিলোমিটার গ্রিড ইন্টারকানেকশন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এক হাজার ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৭শ’ কোটি টাকা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং ৩৭৯ কোটি টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। হাবিবুল্লাহ মজুমদার বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ভেড়ামারা থেকে ভারতের বহরমপুর সীমান্ত পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার ৪০০ কেভি গ্রিড সংযোগ লাইন নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রথম বছরে ২৫০ মেগাওয়াট এবং পরের ৩৪ বছর ৫০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুত্ আদান-প্রদান করা যাবে। ২০১২ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই বিদ্যুত্ আদান-প্রদান করা যাবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া দেশে গ্যাস সঙ্কট মেটাতে ৫টি নতুন কূপ খনন ও ১টি কূপ মেরামতের জন্য ৭৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেকে।
অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাজুরিয়া- গান্ধাসুর- সাতপাড়- পাতিয়ারা- রামদিয়া (রামদিয়াবাজার বাইপাসসহ) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচুড়িয়া -ফরিদপুর - ভাঙ্গা রেলপথ পুনর্বাসন ও নির্মাণ প্রকল্প এবং ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গোয়ালন্দ- ফরিদপুর- তাড়াইল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/08/18/39744
Monday, 16 August 2010
আওয়ামী লীগের বেপরোয়া এমপিরা
মির্জা মেহেদী তমাল
ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন শাসকদলের কিছু সংসদ সদস্য। সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষকদেরও তারা রেহাই দিচ্ছেন না। মারধর করছেন প্রকাশ্যে। কোনো কোনো স্থানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গেই দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক এমপি। দলের একাধিক এমপি এভাবে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় সরকারের নীতিনির্ধারকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
বিশেষ করে নুরুন্নবী শাওন এমপির বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারে খুনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। সূত্রে জানা গেছে, খোদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে দল এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন পদাধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের এমনও বলেছেন, '৯৬ এর সরকারে কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির বেপরোয়া আচরণের চরম মূল্য গোটা দলকে দিতে হয়েছিল। এমনটি ভবিষ্যতে হোক তিনি চান না। এ জন্য অবিলম্বে অসংযত আচরণকারী এমপিদের লাগাম টেনে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ দিকে সরকারি দলের এমপিদের কার্যক্রম নিয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও প্রতিবেদন দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ঘনিষ্ঠসূত্র জানায়, বিতর্কিতদের দায়দায়িত্ব যাতে দলের ওপরে না আসে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে ইতোমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি দলীয়ভাবেও বিতর্ক সৃষ্টিকারী সংসদ সদস্যদের একটি তালিকা করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বেপরোয়া এমপিদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোলা-৩ আসনের এমপি ও যুবলীগ নেতা নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খোদ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সংসদ ভবন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবলীগ কর্মী ইব্রাহীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ছেন অনেকেই। পুলিশ ইতোমধ্যে তার অস্ত্র ও জিপ গাড়ি জব্দ করেছে। এ দিকে ৩০ জুন আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন সেতুর কাছে কর্তব্য পালনের সময় মো. ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহ এমপি সাভারের ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. শরীফুল ইসলামকে মারধর করেন। এ ঘটনায় সার্জেন্ট শরীফুল ইসলাম ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ঢাকা-৪ আসনের এমপি সানজিদা খানমের বিরুদ্ধে রাস্তার উন্নয়নকাজ বন্ধ রেখে চঁাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর দয়াগঞ্জের একটি সড়কের উন্নয়ন নিয়ে চাঁদা দাবি ঘটনা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরীর বিরুদ্ধে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি নিয়ে দুর্নীতি ছাড়াও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কথা বলায় ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরকে মারধর পর্যন্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে সারাহ বেগম কবরী বলেন, 'আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। আমার দ্বারা কাউকে মারধর সম্ভব?' এ দিকে যশোর-১ আসনের সরকারদলীয় এমপি শেখ আফিলউদ্দিন রবিবার শার্শা থানার ওসিকে পিটিয়েছেন। যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ আফিলউদ্দিন এ ঘটনা ঘটান। তাকে মারধরের সময় থানার কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে আফিলউদ্দিন এমপি বলেন, ওসি তার নিজের অপকর্ম ঢাকতে আমার সম্পর্কে কুৎসা রটাচ্ছেন। মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি মো. আজিজুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে হস্তক্ষেপ, কর্মীদের মারধর, অসহযোগিতা, দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। গত বছর অক্টোবরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্য মো. আজিজুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র। নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান অভিযোগ করেছিলেন, আজিজুল হক চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে এলাকায় ভিজিএফ, কাবিখাসহ বিভিন্ন সরকারি কাজে লুটপাট চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের আবদুল ওদুদ এমপি ও তার সহযোগী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে মামলা হয়েছে। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে এ মামলা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান এবং স্থানীয় হাবিবুর রহমান ও মো. আলাউদ্দীন। এ দিকে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর ভোর ছয়টা থেকে কঙ্বাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলীতে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করছিল। বেলা ১২টার দিকে সরকারি দলের এমপি এম এ লতিফ ওই তল্লাশি থেকে ২০ গজ দূরে তার গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আবদুল আজিজ ও পরে হাবিলদার শামসুল আলমকে ডেকে পাঠান। পুলিশ অভিযোগ করে, লতিফ এমপি ওই দুজনকে তুই-তুকারি করে তল্লাশির কারণ জানতে চান। নিজেকে সরকারি দলের এমপি পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে এসে ফুল দিতে গিয়েও পুলিশকে মারধর করেন চট্টগ্রামের আলোচিত এই এমপি।
কঙ্বাজার-টেকনাফ সড়কের কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বিকল সড়ক মেরামত ও ঠিকাদার নিয়োগ নিয়ে ১৬ জুন আবদুর রহমান বদি এমপি নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিমকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে কঙ্বাজার ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক, সেতু ও কালভার্টের নির্মাণকাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখে। ২৩ জুন এক সমঝোতা বৈঠকে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিমকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান এমপি আবদুর রহমান বদি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে একাই ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনের সরকারদলীয় এমপি আবদুল মান্নান। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন এমপি তার নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারেন। এ ব্যাপারে মার্চের প্রথম সপ্তাহে যশোর শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগও করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম। কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী) আসনের ক্ষমতাসীন দলের এমপি মো. জাকির হোসেন ৬ জানুয়ারি রৌমারী ভূমি অফিসের কর্মচারী মোশাররফ হোসেনকে মারধর করেন। অফিস সহকারী পদে পছন্দমতো প্রার্থীকে নির্বাচিত না করায় সুনামগঞ্জের জয়শ্রী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি এবং জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্কাছ উদ্দিন আহমেদকে মারধর করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও এমপির মারধরের হাত থেকে রক্ষা পাননি। দলীয় এমপিদের বেপরোয়া আচরণের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নিশ্চয়ই দল বিষয়টি দেখবে। তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি সবার আগে। কারো আচরণ যদি দলের জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলে তিনি যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন পার পাবেন না।
http://bangladesh-pratidin.com/
ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন শাসকদলের কিছু সংসদ সদস্য। সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষকদেরও তারা রেহাই দিচ্ছেন না। মারধর করছেন প্রকাশ্যে। কোনো কোনো স্থানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গেই দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক এমপি। দলের একাধিক এমপি এভাবে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় সরকারের নীতিনির্ধারকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
বিশেষ করে নুরুন্নবী শাওন এমপির বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারে খুনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। সূত্রে জানা গেছে, খোদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে দল এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন পদাধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের এমনও বলেছেন, '৯৬ এর সরকারে কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির বেপরোয়া আচরণের চরম মূল্য গোটা দলকে দিতে হয়েছিল। এমনটি ভবিষ্যতে হোক তিনি চান না। এ জন্য অবিলম্বে অসংযত আচরণকারী এমপিদের লাগাম টেনে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ দিকে সরকারি দলের এমপিদের কার্যক্রম নিয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও প্রতিবেদন দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ঘনিষ্ঠসূত্র জানায়, বিতর্কিতদের দায়দায়িত্ব যাতে দলের ওপরে না আসে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে ইতোমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি দলীয়ভাবেও বিতর্ক সৃষ্টিকারী সংসদ সদস্যদের একটি তালিকা করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বেপরোয়া এমপিদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোলা-৩ আসনের এমপি ও যুবলীগ নেতা নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খোদ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সংসদ ভবন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবলীগ কর্মী ইব্রাহীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ছেন অনেকেই। পুলিশ ইতোমধ্যে তার অস্ত্র ও জিপ গাড়ি জব্দ করেছে। এ দিকে ৩০ জুন আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন সেতুর কাছে কর্তব্য পালনের সময় মো. ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহ এমপি সাভারের ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. শরীফুল ইসলামকে মারধর করেন। এ ঘটনায় সার্জেন্ট শরীফুল ইসলাম ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ঢাকা-৪ আসনের এমপি সানজিদা খানমের বিরুদ্ধে রাস্তার উন্নয়নকাজ বন্ধ রেখে চঁাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর দয়াগঞ্জের একটি সড়কের উন্নয়ন নিয়ে চাঁদা দাবি ঘটনা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরীর বিরুদ্ধে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি নিয়ে দুর্নীতি ছাড়াও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কথা বলায় ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরকে মারধর পর্যন্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে সারাহ বেগম কবরী বলেন, 'আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। আমার দ্বারা কাউকে মারধর সম্ভব?' এ দিকে যশোর-১ আসনের সরকারদলীয় এমপি শেখ আফিলউদ্দিন রবিবার শার্শা থানার ওসিকে পিটিয়েছেন। যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ আফিলউদ্দিন এ ঘটনা ঘটান। তাকে মারধরের সময় থানার কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে আফিলউদ্দিন এমপি বলেন, ওসি তার নিজের অপকর্ম ঢাকতে আমার সম্পর্কে কুৎসা রটাচ্ছেন। মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি মো. আজিজুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে হস্তক্ষেপ, কর্মীদের মারধর, অসহযোগিতা, দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। গত বছর অক্টোবরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্য মো. আজিজুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র। নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান অভিযোগ করেছিলেন, আজিজুল হক চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে এলাকায় ভিজিএফ, কাবিখাসহ বিভিন্ন সরকারি কাজে লুটপাট চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের আবদুল ওদুদ এমপি ও তার সহযোগী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে মামলা হয়েছে। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে এ মামলা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান এবং স্থানীয় হাবিবুর রহমান ও মো. আলাউদ্দীন। এ দিকে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর ভোর ছয়টা থেকে কঙ্বাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলীতে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করছিল। বেলা ১২টার দিকে সরকারি দলের এমপি এম এ লতিফ ওই তল্লাশি থেকে ২০ গজ দূরে তার গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আবদুল আজিজ ও পরে হাবিলদার শামসুল আলমকে ডেকে পাঠান। পুলিশ অভিযোগ করে, লতিফ এমপি ওই দুজনকে তুই-তুকারি করে তল্লাশির কারণ জানতে চান। নিজেকে সরকারি দলের এমপি পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে এসে ফুল দিতে গিয়েও পুলিশকে মারধর করেন চট্টগ্রামের আলোচিত এই এমপি।
কঙ্বাজার-টেকনাফ সড়কের কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বিকল সড়ক মেরামত ও ঠিকাদার নিয়োগ নিয়ে ১৬ জুন আবদুর রহমান বদি এমপি নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিমকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে কঙ্বাজার ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক, সেতু ও কালভার্টের নির্মাণকাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখে। ২৩ জুন এক সমঝোতা বৈঠকে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিমকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান এমপি আবদুর রহমান বদি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে একাই ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনের সরকারদলীয় এমপি আবদুল মান্নান। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন এমপি তার নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারেন। এ ব্যাপারে মার্চের প্রথম সপ্তাহে যশোর শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগও করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম। কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী) আসনের ক্ষমতাসীন দলের এমপি মো. জাকির হোসেন ৬ জানুয়ারি রৌমারী ভূমি অফিসের কর্মচারী মোশাররফ হোসেনকে মারধর করেন। অফিস সহকারী পদে পছন্দমতো প্রার্থীকে নির্বাচিত না করায় সুনামগঞ্জের জয়শ্রী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি এবং জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্কাছ উদ্দিন আহমেদকে মারধর করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও এমপির মারধরের হাত থেকে রক্ষা পাননি। দলীয় এমপিদের বেপরোয়া আচরণের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নিশ্চয়ই দল বিষয়টি দেখবে। তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি সবার আগে। কারো আচরণ যদি দলের জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলে তিনি যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন পার পাবেন না।
http://bangladesh-pratidin.com/
Thursday, 3 June 2010
মিগ-২৯ সমাচার : ৮টির মধ্যে ৬টিই গ্রাউন্ডেড : এগুলো এখন বিমানবাহিনীর গলার ফাঁস

29/04/2010
অলিউল্লাহ নোমান
বহুল আলোচিত-সমালোচিত মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান এখন বিমানবাহিনীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশে না উড়ে পরিণত হয়েছে বিমানবাহিনীর শো পিসে। ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমানের ৬টি দীর্ঘদিন থেকে গ্রাউন্ডেড। জোড়াতালি দিয়ে দু’টি আকাশে উড়ানো হলেও তাতে যুদ্ধাস্ত্র নেই। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলো বাংলাদেশে আনার পর থেকেই বিপাকে পড়েছে বিমানবাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে গ্রাউন্ডেড হয়ে থাকা ৬টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান মেরামত করতে বিপুল অংকের টাকার প্রয়োজন। মেরামত করার মতো টাকা বরাদ্দ নেই বিমানবাহিনীর।
অপরদিকে প্রতিবেশী দেশ আরও উন্নত যুদ্ধবিমান তাদের বহরে জোগান দিচ্ছে। এমনকি মিয়ানমারের বিমানবহরের ১২টি অত্যাধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও ২০টি মিগ-২৯। পরবর্তী ২০টি মিগ-২৯ তাদের বিমানবাহিনীর বহরে জোগান দেয়ার জন্য এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ যখন মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে, একই সময়ে মিয়ানমারও ১২টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে। তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় অর্ধৈক দামে ১২টি মিগ ক্রয় করেছিল। তাদের সবগুলো মিগ-২৯ সচল আছে। বাংলাদেশের মিগ-২৯গুলো দীর্ঘদিন থেকেই অচল অবস্থায় গ্রাউন্ডেড। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ অত্যাধুনিক মডেলের মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করলেও বর্তমানে কাজে আসছে না। এতে বিমানবাহিনীর একটি ইউনিট পুরোপুরি শক্তিহীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গ্রাউন্ডেড অবস্থায় অকেজো হয়ে থাকা ৬টি বিমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে দু’টি মিগ-২৯কে কোনোরকমে সচল রাখা হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এই দু’টি মিগও গ্রাউন্ডেড হয়ে যাবে। এতে পুরো অচল হয়ে পড়বে বিমানবাহিনীর ৫নং স্কোয়াড্রন। ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান দিয়ে স্কোয়াড্রন-৫ গঠন করা হয়েছিল। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৭৫ ও ২৬৪ পরিচিতি নম্বরের দু’টি দুই আসনবিশিষ্ট ট্রেইনার। যার মডেল হচ্ছে ‘ইউ’। এছাড়া ৫০১, ৫০২, ৫০৩, ৫০৪, ৫০৫ ৫০৬ পরিচিতি নম্বরের ৬টি এক আসনবিশিষ্ট বিমান। এগুলোর মডেল হচ্ছে ‘বি’। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকার মিগ-২৯গুলো ক্রয় করে। মিগ-২৯গুলো পুরনো ছিল বলে তখনই অভিযোগ উঠেছিল। বিমানগুলো ক্রয় করে দেশে অনার কিছু দিন পরই ওগুলো অচল হয়ে যায়। বিমানগুলো সারানোর জন্য ২০০০ সালে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসা হয়েছিল। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দিয়েছিলের পুরোপুরি কার্যক্ষমতা বা যুদ্ধোপযোগিতা ফিরে পেতে হলে ৮টি মিগ-২৯-এর ১৬টি ইঞ্জিন বদলে নেয়া দরকার। রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা তখন আরও জানিয়েছিলেন ইঞ্জিন না বদলালে বিমানগুলো হাইস্পিড ম্যানুভার করতে পারবে না। এছাড়া আফটার বার্নার ব্যবহারও বন্ধ রাখতে হবে। মতামত প্রদানে তখন রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ইঞ্জিন পরিবর্তন না করলে মিগ-২৯ বিমানগুলো কার্যক্ষমতা হারিয়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর কিছুদিন পরেই সরকার পরিবর্তন হয়। এতে মেরামতের বিষয়ে আর নতুন করে কোনো চুক্তি হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার তখন ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনায় রাষ্ট্রের ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত অপচয় ও আত্মসাতের মামলা করেছিল। মামলাটিতে চার্জ গঠনের পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগ পুরো মামলা বাতিল করে দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২৯ ক্রয় করার সময় দেশে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। অভিযোগ উঠেছিল রাশিয়া থেকে পুরনো মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উচ্চমূল্যে ক্রয় করে আনা হয়েছে। কারণ তড়িঘড়ি করে চুক্তির মাত্র ৬ মাসের মাথায় রাশিয়া বিমানগুলো সরবরাহ করে। এত অল্প সময়ে ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান তৈরি সম্ভব নয় বলে তখনই বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছিলেন। এছাড়া বিমান ক্রয়ের সময় প্রয়োজনীয় মেরামত ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি না থাকায় দেশে আসার পর থেকেই এগুলো নিয়ে বিপাকে পড়ে বিমানবাহিনী। খুচরা যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হলে অনেক সময় বিমানবাহিনী বিভিন্ন দেশের দ্বারস্থ হয়েছে। এমনকি ভারতের দ্বারস্থও হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয় মিগ-২৯ সরবরাহকারী রাশিয়া। একপর্যায়ে ইউক্রেন ও পোল্যান্ড থেকে সেকেন্ডহ্যান্ড যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হয়। যা এই বিমান মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। এগুলো ব্যবহার করায় মিগ-২৯ বিমানে নানারকম যান্ত্রিক ত্রুটি আরও বাড়তে থাকে। পরে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৌশলীদের দ্বারস্থ হলে তারা ভিন্ন দেশের সেকেন্ডহ্যান্ড যন্ত্রাংশ ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেন। তারা জনিয়ে দেন, মিগ-২৯-এর মতো স্টেট অব দ্য আর্ট বা অত্যাধুনিক বিমানে পুরনো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এই অবস্থায় বিমানবাহিনী বাধ্য হয়ে অন্তত দু’টি বিমানকে সচল রাখতে ক্যানিবিলাইজেশন শুরু করে। অর্থাত্ দু’টি বিমান সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বাকি ৬টি বিমান থেকে খুলে এনে ব্যবহার করতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যানিবিলাইজেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে দু’টি বিমানকে কোনোরকমে সচল রাখা হচ্ছে। সচল থাকা এই দু’টি বিমানের ব্যবহার উপযোগী গোলাবারুদ, মিসাইল ও বোমার সঙ্কট রয়েছে। বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্রের মতে, কার্যত সচল থাকা দু’টি বিমানেরও এখন আর যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য নয়।
এদিকে গত জানুয়ারি ও ফেবু্রয়ারি মাসে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির টেকনিশিয়ান প্রতিনিধি দল আসে। তারা বিমানগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফেরত যায় গত মার্চে। সর্বশেষ রাশিয়ার সঙ্গে ২০০৯ সালে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের জন্য টেকনিক্যাল কো-অপারেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়ান টেকনিশিয়ানরা এসে বিমানগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যান। তবে কোনোকরমে সচল থাকা দু’টি বিমানের বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে টেকনিক্যাল কো-অপারেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাকি ৬টি গ্রাউন্ডেড হয়ে থাকা মিগ-২৯-এর ভাগ্যে কি ঘটবে এই প্রশ্ন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে। সূত্র জানায়, রাশিয়ার টেকনিশিয়ান টিম চলে যাওয়ার সময় জানিয়ে গেছে, গ্রাউন্ডেড হয়ে থাকা ৬টি মিগ-২৯কেও সচল করা সম্ভব। এক্ষেত্রে নতুন করে ইঞ্জিন মেরামতের পাশাপাশি অনেক খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হবে। কিছু পুরনো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করতে হবে এবং ক্যানিবিলাইজেশনের কারণে যেসব যন্ত্রাংশ অন্য বিমানে নেয়া হয়েছে সেগুলো পুনঃস্থাপন করতে হবে। কারণ এরই মধ্যে এই বিমানগুলোর কিছু কিছু যন্ত্রাংশ খুলে সচল থাকা দু’টি বিমানে লাগানো হয়েছে। শুধু যন্ত্রাংশ আমদানি করলেই চলবে না, অচল বিমানগুলোর কোনো কোনোটিকে রাশিয়ায় পাঠাতে হবে মেরামতের জন্য। বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের মতো শক্তিশালী বিমানও প্রয়োজন রয়েছে এই বাহিনীতে।
উল্লেখ্য, মাঝে একবার রাশিয়াকে পাশ কাটিয়ে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান মেরামতের জন্য ইউক্রেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এতে এই যুদ্ধবিমানগুলোর প্রস্তুতকারী এবং মূল সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। অথচ আকাশে উড়তে ফিটনেস সার্টিফিকেট (আকাশে উড়তে সক্ষম কিনা) দিতে পারেন রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্তারা।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মিগ-২৯ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান যা মার্কিন এফ-১৬-এর সমতুল্য। মার্কিন এফ-১৬ জঙ্গি বিমানের কাউন্টার পার্ট হিসেবে শোভিয়েত রাশিয়া মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান তখন তৈরি করে। রাষ্ট্রের বিপুল অংকের টাকা খরচ করে কেনা মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলোকে অকেজো ফেলে রাখা হয়েছে। এই বিমানগুলো সচল না থাকায় বিমানবাহিনীর সার্বিক ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। কার্যত বিমানবাহিনীর একটি ইউনিট অচল অবস্থায় আছে।
মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয়ে দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল দাবি করে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলা করেছিল। ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে আসামি করে এই টাকা অপচয়ের অভিযোগে দুর্নীতির মামলাটি হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট বিভাগে শেখ হাসিনা কোয়াশমেন্ট আবেদন করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে বলা হয়েছিল, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয়ে দুর্নীতির যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এই তথ্য-উপাত্তগুলো নিয়ে নিম্ন আদালতে বিচার কার্যক্রম চলতে পারে বলে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন শেখ হাসিনা। তত্কালীন প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ফুলকোর্ট শুনানি শেষে শেখ হাসিনার আপিলটি খারিজ করে দেন। এতে বহাল থাকে হাইকোর্ট বিভাগের রায়। আপিল বিভাগের রায়েও বলা হয় মামলাটিতে বিচার করার মতো যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ের পর বিগত জরুরি অবস্থার সরকারের সময় নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। চার্জ গঠন করা হয় শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তখন বিদেশে অবস্থান করছিলেন। আসামির অনুপস্থিতিতে চার্জ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখন হাইকোর্ট বিভাগে আরেকটি রিট আবেদন করেন শেখ হাসিনা। এই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে সম্প্রতি পুরো মামলাটি বাতিল করে দেয়া হয়। লন্ডনে আওয়ামী লীগ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে দলীয় বৈঠকে যোগদানকারী বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী চার্জ গঠনে ত্রুটির কারণে পুরো মামলাটি বাতিল করে রায় ঘোষণা করেন।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/29/29662
ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকা পলিটেকনিকে তোলপাড় : ধর্ষক দুই ছাত্রলীগকর্মী বহিষ্কার
28/04/2010
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে প্রথমবর্ষের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ গতকাল বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষকদের নিয়ে সভা করে ধর্ষক ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। দুদিন গত হলেও থানা পুলিশ এখনও কোনো মামলা নেয়নি। আসামিরা ইন্সটিটিউট এলাকায় এক প্রকার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এদিকে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশিত হওয়ায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ ছাত্রীরা ধর্ষক দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গত রোববার দিনদুপুরে তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ক্লাসরুমে প্রথমবর্ষের ছাত্রীকে ছাত্রলীগের জাকির গ্রুপের সদস্য মোবারক হোসেন ও অমিত ধর্ষণ করে। ছাত্রীর চিত্কারে ইনস্টিটিউটে শিক্ষকরা ছুটে আসেন। ছাত্রীকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে শিক্ষকদের রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রীটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষকদের কাছে তার করুণ পরিণতির কথা জানায়। উপস্থিত শিক্ষকরা এ ঘটনা শুনে হতভম্ব হয়ে যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির কথা চিন্তা করে তারা বিষয়টিকে গোপন রাখেন। কিন্তু এ ঘটনা আস্তে আস্তে ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষকরা এনিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করেন। গতকাল শিক্ষকদের জরুরি সভায় ছাত্রলীগে দুই ক্যাডার ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র মোবারক হোসেন ও তার সহযোগী একই বর্ষের অমিতকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই দুই ধর্ষক যাতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর ভর্তি হতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদি তারা কোথাও ভর্তি হতে যায় তাহলে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় ইন্সটিটিউটের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ ক্যাডারদের ভয়ে কোনো ছাত্র-ছাত্রী এ ঘটনায় প্রতিবাদও করতে পারেনি। তারা সন্ধিহান যে, এ ঘটনার বিচার কর্তৃপক্ষ আদৌ করতে পারবে কিনা? গতকাল ইনস্টিটিউট এলাকায় গিয়ে থমথমে পরিস্থিত লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ ছাত্ররা যাতে মিছিল না করতে পারে সেজন্য ছাত্রলীগ ক্যাডাররা কড়া নজর রাখছে।
অপরদিকে দুদিন গত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ দুই ধর্ষককে গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গতকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলাও দায়ের হয়নি। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, ভিকটিম বা অন্য কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ না করার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে তিনি আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। তবে ঘটনাটি তিনি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, লোকলজ্জার কারণে ধর্ষিতা মেয়ের পক্ষে এখনও কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা করার বিষয়েও গতকাল পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। শুধু বলেন, দোষী দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/28/29522
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে প্রথমবর্ষের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ গতকাল বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষকদের নিয়ে সভা করে ধর্ষক ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। দুদিন গত হলেও থানা পুলিশ এখনও কোনো মামলা নেয়নি। আসামিরা ইন্সটিটিউট এলাকায় এক প্রকার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এদিকে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশিত হওয়ায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ ছাত্রীরা ধর্ষক দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গত রোববার দিনদুপুরে তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ক্লাসরুমে প্রথমবর্ষের ছাত্রীকে ছাত্রলীগের জাকির গ্রুপের সদস্য মোবারক হোসেন ও অমিত ধর্ষণ করে। ছাত্রীর চিত্কারে ইনস্টিটিউটে শিক্ষকরা ছুটে আসেন। ছাত্রীকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে শিক্ষকদের রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রীটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষকদের কাছে তার করুণ পরিণতির কথা জানায়। উপস্থিত শিক্ষকরা এ ঘটনা শুনে হতভম্ব হয়ে যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির কথা চিন্তা করে তারা বিষয়টিকে গোপন রাখেন। কিন্তু এ ঘটনা আস্তে আস্তে ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষকরা এনিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করেন। গতকাল শিক্ষকদের জরুরি সভায় ছাত্রলীগে দুই ক্যাডার ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র মোবারক হোসেন ও তার সহযোগী একই বর্ষের অমিতকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই দুই ধর্ষক যাতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর ভর্তি হতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদি তারা কোথাও ভর্তি হতে যায় তাহলে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় ইন্সটিটিউটের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ ক্যাডারদের ভয়ে কোনো ছাত্র-ছাত্রী এ ঘটনায় প্রতিবাদও করতে পারেনি। তারা সন্ধিহান যে, এ ঘটনার বিচার কর্তৃপক্ষ আদৌ করতে পারবে কিনা? গতকাল ইনস্টিটিউট এলাকায় গিয়ে থমথমে পরিস্থিত লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ ছাত্ররা যাতে মিছিল না করতে পারে সেজন্য ছাত্রলীগ ক্যাডাররা কড়া নজর রাখছে।
অপরদিকে দুদিন গত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ দুই ধর্ষককে গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গতকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলাও দায়ের হয়নি। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, ভিকটিম বা অন্য কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ না করার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে তিনি আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। তবে ঘটনাটি তিনি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, লোকলজ্জার কারণে ধর্ষিতা মেয়ের পক্ষে এখনও কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা করার বিষয়েও গতকাল পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। শুধু বলেন, দোষী দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/28/29522
চুনারুঘাটে আ’লীগ : নেতার হামলায় সাংবাদিক হাসপাতালে

28/04/2010
হবিগঞ্জ ও চুনারুঘাট প্রতিনিধি
সংবাদ প্রকাশের জের ধরে নিউ নেশন ও হবিগঞ্জ সমা-চার পত্রিকার হবিগঞ্জের চুনা-রুঘাট প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান তাহের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তার ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা, দুটি মোবাইল সেট ও টাকা নিয়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে আক্রমণ করে। জানা গেছে, সোমবার বিকেলে মনিরুজ্জামান তাহের চণ্ডিছড়া চা-বাগান থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে চুনারুঘাট সদরে ফিরছিলেন। তিনি দেওরগাছ এলাকায় আসামাত্র ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে এবং হামলা চালায়। তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে তাকে রক্ষা করে। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার এএসআই হরিদাশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিত্সকরা তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে রেফার করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মনিরুজ্জামান তাহের জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা তার একটি ভিডিও ক্যামেরা, একটি স্টিল ক্যামেরা, দুটি মোবাইল সেটসহ নগদ টাকা লুটে নেয়।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহমেদ খান জানান, সাংবাদিক তাহেরকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। কারা হামলার সঙ্গে জড়িত এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের পায়নি।
মনিরুজ্জামান তাহেরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন চুনারুঘাট প্রেসক্লাব নেতারা। তারা হামলাকারীদের শাস্তির দাবি করেন।
এদিকে চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক মনিরুজ্জামান তাহেরের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল চুনারুঘাট প্রেসক্লাবে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংগঠনিক সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি ফারুক উদ্দিন চৌধুরী, মোঃ সিরাজুল হক, মোঃ নুরুল আমিন, মোঃ হাছান আলী, মোঃ কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, জামাল হোসেন লিটন, ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, মহিদ আহমেদ চৌধুরী, মোস্তাক আহমেদ তরফদার, রাইরঞ্জন পাল, জুনায়েদ আহমেদ, এসএম তাহের খান, দুলাল মিয়া প্রমুখ। সভায় হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের সাংবাদিকদের জানান, হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত রোববার হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকায় ‘চান্দপুর চা-বাগানে ওজনে কম ও নিম্নমানের রেশন দেয়ায় শ্রমিকদের ক্ষোভ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যান আবু হাতের।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/28/29510
Subscribe to:
Posts (Atom)