Thursday, 3 June 2010

মিগ-২৯ সমাচার : ৮টির মধ্যে ৬টিই গ্রাউন্ডেড : এগুলো এখন বিমানবাহিনীর গলার ফাঁস



29/04/2010

অলিউল্লাহ নোমান
বহুল আলোচিত-সমালোচিত মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান এখন বিমানবাহিনীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশে না উড়ে পরিণত হয়েছে বিমানবাহিনীর শো পিসে। ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমানের ৬টি দীর্ঘদিন থেকে গ্রাউন্ডেড। জোড়াতালি দিয়ে দু’টি আকাশে উড়ানো হলেও তাতে যুদ্ধাস্ত্র নেই। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলো বাংলাদেশে আনার পর থেকেই বিপাকে পড়েছে বিমানবাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে গ্রাউন্ডেড হয়ে থাকা ৬টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান মেরামত করতে বিপুল অংকের টাকার প্রয়োজন। মেরামত করার মতো টাকা বরাদ্দ নেই বিমানবাহিনীর।
অপরদিকে প্রতিবেশী দেশ আরও উন্নত যুদ্ধবিমান তাদের বহরে জোগান দিচ্ছে। এমনকি মিয়ানমারের বিমানবহরের ১২টি অত্যাধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও ২০টি মিগ-২৯। পরবর্তী ২০টি মিগ-২৯ তাদের বিমানবাহিনীর বহরে জোগান দেয়ার জন্য এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ যখন মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে, একই সময়ে মিয়ানমারও ১২টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে। তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় অর্ধৈক দামে ১২টি মিগ ক্রয় করেছিল। তাদের সবগুলো মিগ-২৯ সচল আছে। বাংলাদেশের মিগ-২৯গুলো দীর্ঘদিন থেকেই অচল অবস্থায় গ্রাউন্ডেড। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ অত্যাধুনিক মডেলের মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করলেও বর্তমানে কাজে আসছে না। এতে বিমানবাহিনীর একটি ইউনিট পুরোপুরি শক্তিহীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গ্রাউন্ডেড অবস্থায় অকেজো হয়ে থাকা ৬টি বিমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে দু’টি মিগ-২৯কে কোনোরকমে সচল রাখা হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এই দু’টি মিগও গ্রাউন্ডেড হয়ে যাবে। এতে পুরো অচল হয়ে পড়বে বিমানবাহিনীর ৫নং স্কোয়াড্রন। ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান দিয়ে স্কোয়াড্রন-৫ গঠন করা হয়েছিল। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৭৫ ও ২৬৪ পরিচিতি নম্বরের দু’টি দুই আসনবিশিষ্ট ট্রেইনার। যার মডেল হচ্ছে ‘ইউ’। এছাড়া ৫০১, ৫০২, ৫০৩, ৫০৪, ৫০৫ ৫০৬ পরিচিতি নম্বরের ৬টি এক আসনবিশিষ্ট বিমান। এগুলোর মডেল হচ্ছে ‘বি’। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকার মিগ-২৯গুলো ক্রয় করে। মিগ-২৯গুলো পুরনো ছিল বলে তখনই অভিযোগ উঠেছিল। বিমানগুলো ক্রয় করে দেশে অনার কিছু দিন পরই ওগুলো অচল হয়ে যায়। বিমানগুলো সারানোর জন্য ২০০০ সালে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসা হয়েছিল। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দিয়েছিলের পুরোপুরি কার্যক্ষমতা বা যুদ্ধোপযোগিতা ফিরে পেতে হলে ৮টি মিগ-২৯-এর ১৬টি ইঞ্জিন বদলে নেয়া দরকার। রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা তখন আরও জানিয়েছিলেন ইঞ্জিন না বদলালে বিমানগুলো হাইস্পিড ম্যানুভার করতে পারবে না। এছাড়া আফটার বার্নার ব্যবহারও বন্ধ রাখতে হবে। মতামত প্রদানে তখন রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ইঞ্জিন পরিবর্তন না করলে মিগ-২৯ বিমানগুলো কার্যক্ষমতা হারিয়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর কিছুদিন পরেই সরকার পরিবর্তন হয়। এতে মেরামতের বিষয়ে আর নতুন করে কোনো চুক্তি হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার তখন ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনায় রাষ্ট্রের ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত অপচয় ও আত্মসাতের মামলা করেছিল। মামলাটিতে চার্জ গঠনের পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগ পুরো মামলা বাতিল করে দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২৯ ক্রয় করার সময় দেশে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। অভিযোগ উঠেছিল রাশিয়া থেকে পুরনো মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উচ্চমূল্যে ক্রয় করে আনা হয়েছে। কারণ তড়িঘড়ি করে চুক্তির মাত্র ৬ মাসের মাথায় রাশিয়া বিমানগুলো সরবরাহ করে। এত অল্প সময়ে ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান তৈরি সম্ভব নয় বলে তখনই বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছিলেন। এছাড়া বিমান ক্রয়ের সময় প্রয়োজনীয় মেরামত ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি না থাকায় দেশে আসার পর থেকেই এগুলো নিয়ে বিপাকে পড়ে বিমানবাহিনী। খুচরা যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হলে অনেক সময় বিমানবাহিনী বিভিন্ন দেশের দ্বারস্থ হয়েছে। এমনকি ভারতের দ্বারস্থও হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয় মিগ-২৯ সরবরাহকারী রাশিয়া। একপর্যায়ে ইউক্রেন ও পোল্যান্ড থেকে সেকেন্ডহ্যান্ড যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হয়। যা এই বিমান মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। এগুলো ব্যবহার করায় মিগ-২৯ বিমানে নানারকম যান্ত্রিক ত্রুটি আরও বাড়তে থাকে। পরে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৌশলীদের দ্বারস্থ হলে তারা ভিন্ন দেশের সেকেন্ডহ্যান্ড যন্ত্রাংশ ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেন। তারা জনিয়ে দেন, মিগ-২৯-এর মতো স্টেট অব দ্য আর্ট বা অত্যাধুনিক বিমানে পুরনো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এই অবস্থায় বিমানবাহিনী বাধ্য হয়ে অন্তত দু’টি বিমানকে সচল রাখতে ক্যানিবিলাইজেশন শুরু করে। অর্থাত্ দু’টি বিমান সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বাকি ৬টি বিমান থেকে খুলে এনে ব্যবহার করতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যানিবিলাইজেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে দু’টি বিমানকে কোনোরকমে সচল রাখা হচ্ছে। সচল থাকা এই দু’টি বিমানের ব্যবহার উপযোগী গোলাবারুদ, মিসাইল ও বোমার সঙ্কট রয়েছে। বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্রের মতে, কার্যত সচল থাকা দু’টি বিমানেরও এখন আর যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য নয়।
এদিকে গত জানুয়ারি ও ফেবু্রয়ারি মাসে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির টেকনিশিয়ান প্রতিনিধি দল আসে। তারা বিমানগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফেরত যায় গত মার্চে। সর্বশেষ রাশিয়ার সঙ্গে ২০০৯ সালে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের জন্য টেকনিক্যাল কো-অপারেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়ান টেকনিশিয়ানরা এসে বিমানগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যান। তবে কোনোকরমে সচল থাকা দু’টি বিমানের বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে টেকনিক্যাল কো-অপারেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাকি ৬টি গ্রাউন্ডেড হয়ে থাকা মিগ-২৯-এর ভাগ্যে কি ঘটবে এই প্রশ্ন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে। সূত্র জানায়, রাশিয়ার টেকনিশিয়ান টিম চলে যাওয়ার সময় জানিয়ে গেছে, গ্রাউন্ডেড হয়ে থাকা ৬টি মিগ-২৯কেও সচল করা সম্ভব। এক্ষেত্রে নতুন করে ইঞ্জিন মেরামতের পাশাপাশি অনেক খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হবে। কিছু পুরনো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করতে হবে এবং ক্যানিবিলাইজেশনের কারণে যেসব যন্ত্রাংশ অন্য বিমানে নেয়া হয়েছে সেগুলো পুনঃস্থাপন করতে হবে। কারণ এরই মধ্যে এই বিমানগুলোর কিছু কিছু যন্ত্রাংশ খুলে সচল থাকা দু’টি বিমানে লাগানো হয়েছে। শুধু যন্ত্রাংশ আমদানি করলেই চলবে না, অচল বিমানগুলোর কোনো কোনোটিকে রাশিয়ায় পাঠাতে হবে মেরামতের জন্য। বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের মতো শক্তিশালী বিমানও প্রয়োজন রয়েছে এই বাহিনীতে।
উল্লেখ্য, মাঝে একবার রাশিয়াকে পাশ কাটিয়ে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান মেরামতের জন্য ইউক্রেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এতে এই যুদ্ধবিমানগুলোর প্রস্তুতকারী এবং মূল সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। অথচ আকাশে উড়তে ফিটনেস সার্টিফিকেট (আকাশে উড়তে সক্ষম কিনা) দিতে পারেন রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্তারা।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মিগ-২৯ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান যা মার্কিন এফ-১৬-এর সমতুল্য। মার্কিন এফ-১৬ জঙ্গি বিমানের কাউন্টার পার্ট হিসেবে শোভিয়েত রাশিয়া মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান তখন তৈরি করে। রাষ্ট্রের বিপুল অংকের টাকা খরচ করে কেনা মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলোকে অকেজো ফেলে রাখা হয়েছে। এই বিমানগুলো সচল না থাকায় বিমানবাহিনীর সার্বিক ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। কার্যত বিমানবাহিনীর একটি ইউনিট অচল অবস্থায় আছে।
মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয়ে দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল দাবি করে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলা করেছিল। ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে আসামি করে এই টাকা অপচয়ের অভিযোগে দুর্নীতির মামলাটি হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট বিভাগে শেখ হাসিনা কোয়াশমেন্ট আবেদন করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে বলা হয়েছিল, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয়ে দুর্নীতির যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এই তথ্য-উপাত্তগুলো নিয়ে নিম্ন আদালতে বিচার কার্যক্রম চলতে পারে বলে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন শেখ হাসিনা। তত্কালীন প্রধান বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ফুলকোর্ট শুনানি শেষে শেখ হাসিনার আপিলটি খারিজ করে দেন। এতে বহাল থাকে হাইকোর্ট বিভাগের রায়। আপিল বিভাগের রায়েও বলা হয় মামলাটিতে বিচার করার মতো যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ের পর বিগত জরুরি অবস্থার সরকারের সময় নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। চার্জ গঠন করা হয় শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তখন বিদেশে অবস্থান করছিলেন। আসামির অনুপস্থিতিতে চার্জ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখন হাইকোর্ট বিভাগে আরেকটি রিট আবেদন করেন শেখ হাসিনা। এই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে সম্প্রতি পুরো মামলাটি বাতিল করে দেয়া হয়। লন্ডনে আওয়ামী লীগ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে দলীয় বৈঠকে যোগদানকারী বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী চার্জ গঠনে ত্রুটির কারণে পুরো মামলাটি বাতিল করে রায় ঘোষণা করেন।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/29/29662

ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকা পলিটেকনিকে তোলপাড় : ধর্ষক দুই ছাত্রলীগকর্মী বহিষ্কার

28/04/2010
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে প্রথমবর্ষের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ গতকাল বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষকদের নিয়ে সভা করে ধর্ষক ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। দুদিন গত হলেও থানা পুলিশ এখনও কোনো মামলা নেয়নি। আসামিরা ইন্সটিটিউট এলাকায় এক প্রকার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এদিকে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশিত হওয়ায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ ছাত্রীরা ধর্ষক দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গত রোববার দিনদুপুরে তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ক্লাসরুমে প্রথমবর্ষের ছাত্রীকে ছাত্রলীগের জাকির গ্রুপের সদস্য মোবারক হোসেন ও অমিত ধর্ষণ করে। ছাত্রীর চিত্কারে ইনস্টিটিউটে শিক্ষকরা ছুটে আসেন। ছাত্রীকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে শিক্ষকদের রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রীটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষকদের কাছে তার করুণ পরিণতির কথা জানায়। উপস্থিত শিক্ষকরা এ ঘটনা শুনে হতভম্ব হয়ে যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির কথা চিন্তা করে তারা বিষয়টিকে গোপন রাখেন। কিন্তু এ ঘটনা আস্তে আস্তে ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষকরা এনিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করেন। গতকাল শিক্ষকদের জরুরি সভায় ছাত্রলীগে দুই ক্যাডার ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র মোবারক হোসেন ও তার সহযোগী একই বর্ষের অমিতকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই দুই ধর্ষক যাতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর ভর্তি হতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদি তারা কোথাও ভর্তি হতে যায় তাহলে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় ইন্সটিটিউটের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ ক্যাডারদের ভয়ে কোনো ছাত্র-ছাত্রী এ ঘটনায় প্রতিবাদও করতে পারেনি। তারা সন্ধিহান যে, এ ঘটনার বিচার কর্তৃপক্ষ আদৌ করতে পারবে কিনা? গতকাল ইনস্টিটিউট এলাকায় গিয়ে থমথমে পরিস্থিত লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ ছাত্ররা যাতে মিছিল না করতে পারে সেজন্য ছাত্রলীগ ক্যাডাররা কড়া নজর রাখছে।
অপরদিকে দুদিন গত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ দুই ধর্ষককে গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গতকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলাও দায়ের হয়নি। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, ভিকটিম বা অন্য কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ না করার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে তিনি আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। তবে ঘটনাটি তিনি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, লোকলজ্জার কারণে ধর্ষিতা মেয়ের পক্ষে এখনও কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা করার বিষয়েও গতকাল পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। শুধু বলেন, দোষী দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/28/29522

চুনারুঘাটে আ’লীগ : নেতার হামলায় সাংবাদিক হাসপাতালে



28/04/2010
হবিগঞ্জ ও চুনারুঘাট প্রতিনিধি
সংবাদ প্রকাশের জের ধরে নিউ নেশন ও হবিগঞ্জ সমা-চার পত্রিকার হবিগঞ্জের চুনা-রুঘাট প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান তাহের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তার ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা, দুটি মোবাইল সেট ও টাকা নিয়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে আক্রমণ করে। জানা গেছে, সোমবার বিকেলে মনিরুজ্জামান তাহের চণ্ডিছড়া চা-বাগান থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে চুনারুঘাট সদরে ফিরছিলেন। তিনি দেওরগাছ এলাকায় আসামাত্র ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে এবং হামলা চালায়। তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে তাকে রক্ষা করে। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার এএসআই হরিদাশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিত্সকরা তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে রেফার করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মনিরুজ্জামান তাহের জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা তার একটি ভিডিও ক্যামেরা, একটি স্টিল ক্যামেরা, দুটি মোবাইল সেটসহ নগদ টাকা লুটে নেয়।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহমেদ খান জানান, সাংবাদিক তাহেরকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। কারা হামলার সঙ্গে জড়িত এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের পায়নি।
মনিরুজ্জামান তাহেরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন চুনারুঘাট প্রেসক্লাব নেতারা। তারা হামলাকারীদের শাস্তির দাবি করেন।
এদিকে চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক মনিরুজ্জামান তাহেরের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল চুনারুঘাট প্রেসক্লাবে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংগঠনিক সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি ফারুক উদ্দিন চৌধুরী, মোঃ সিরাজুল হক, মোঃ নুরুল আমিন, মোঃ হাছান আলী, মোঃ কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, জামাল হোসেন লিটন, ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, মহিদ আহমেদ চৌধুরী, মোস্তাক আহমেদ তরফদার, রাইরঞ্জন পাল, জুনায়েদ আহমেদ, এসএম তাহের খান, দুলাল মিয়া প্রমুখ। সভায় হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের সাংবাদিকদের জানান, হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত রোববার হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকায় ‘চান্দপুর চা-বাগানে ওজনে কম ও নিম্নমানের রেশন দেয়ায় শ্রমিকদের ক্ষোভ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যান আবু হাতের।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/28/29510

Saturday, 24 April 2010

সুপ্রিমকোর্টে সেদিন যা ঘটেছিল



স্টাফ রিপোর্টার
সুপ্রিমকোর্টে ভাংচুর ও তাণ্ডবের একটি ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ওই তাণ্ডবে অংশগ্রহণকারী একজনকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি সরকার সমর্থক সিনিয়র আইনজীবীরা ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বরের সেই ঘটনাকে বিকৃতভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করছেন। ২০০৬ সালে ওই ঘটনার প্রতিবাদে খোদ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা টানা ৩ দিন এজলাসে বসা থেকে বিরত ছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় দৈনিক আমার দেশ সেদিনের ঘটনা আবারও উপস্থাপন করছে।
সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের চেম্বারে ব্যাপক ভাংচুর এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর। পরের দিন সব জাতীয় দৈনিকে এ ঘটনার সংবাদ শীর্ষ শিরোনাম হিসেবে প্রকাশিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে শুনানির জন্য তত্কালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি শুনানি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলে এ ঘটনা ঘটানো হয়। প্রধান বিচারপতির এই আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির এজলাসের ভেতর ও বাইরে সহিংসতা ছড়ায়। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে লাঠি হাতে অনেক বহিরাগত যুবককে আদালত প্রাঙ্গণে ভাংচুরে অংশ নিতে দেখা গেছে সেদিন। দেড়ঘণ্টা ফ্রিস্টাইল ভাংচুর এবং একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর পুলিশ আসে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি স্থগিত করার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা তত্কালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেন। তারা প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তার আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটির শুনানি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণার পরপরই আদালত কক্ষে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থক আইনজীবীরা। ওই মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম ও ড. কামাল হোসেনসহ অন্যদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা স্লোগান দিতে দিতে প্রধান বিচারপতির এজলাসের দিকে যান।



এর আগে রোকনউদ্দিন মাহমুদ চিত্কার করে বলেন, প্রধান বিচারপতির এ বিষয়ে কোনো এখতিয়ার নেই। প্রধান বিচারপতি কোনো মামলার শুনানি কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারেন না। একই কথা চিত্কার করে বলেন ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম। এ সময় আদালতে উপস্থিত ১৪ দলের আইনজীবীরা হৈচৈ শুরু করেন এবং অনেকে লাফিয়ে টেবিলের ওপরে ওঠেন। তারা আদালতে উপস্থিত সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন এবং তাদের প্রতি তেড়ে যান। এতে আদালতে উপস্থিত চারদলীয় জোটের সমর্থক আইনজীবীরাও প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় হৈচৈ। তখনও বিচারপতিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। বিচারপতিদের এজলাসে বসে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন আইনজীবী লাফিয়ে টেবিলে ওঠেন এবং চিত্কার করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে আক্রমণের জন্য এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা এনেক্স ভবনের এই আদালত থেকে প্রধান বিচারপতির চেম্বারের দিকে দৌড়ে যান। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির তখন উপস্থিত ছিলেন না। তারা প্রধান বিচারপতিকে না পেয়ে তার চেম্বার ও প্রধান বিচারপতির আদালতে ভাংচুর চালান। এ সময় বেশ কিছু দরজা-জানালা ও চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়। ছুড়ে মারা হয় প্রচুর আইনের বই। অনেক বই ওইদিন বিকালেও এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওপরে ছুড়ে মারা একটি চেয়ার ভেঙে ভবনের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন আইনের বই তারা তছনছ করেন তারা। প্রধান বিচারপতির চেম্বারের সামনে রাখা ফুলের টবগুলো একে একে দোতলা থেকে ছুড়ে মারা হয় নিচে। তারা প্রধান বিচারপতির চেম্বারের সামনে ওড়ানো জাতীয় পতাকা টেনে নিচে নামান। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগদানকারী বহিরাগতরা পুরো সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণজুড়ে তাণ্ডব চালায়। ওই ভাংচুর থেকে রক্ষা পায়নি অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরও।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/25/29079

Thursday, 22 April 2010

সত্তরের দশকের প্রায় প্রতিটি আন্দোলনে জামায়াত আওয়ামী লীগের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে



স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত সকল আন্দোলন সংগ্রামে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের দাবী এক হয়েও জামায়াত দেশ বিরোধী। অথচ ষাট হতে সত্তরের দশকের প্রায় প্রতিটি আন্দোলনে জামায়াত আওয়ামী লীগের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে অবিসম্বাদী জয়ের পর যখন পাকিস্থানী শাসক গোষ্ঠি যখন টালবাহানায় লিপ্ত ছিল, তখন বারংবার জামায়াতের পক্ষ থেকে বিজয়ী শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পনের জোর দাবী জানানো হয়েছে। কেননা সকলেই জানতেন এর অন্যথা হলে দেশ অবশ্যম্ভাবী বিভক্তির দিকে এগিয়ে যাবে, যা আওয়ামী লীগ নিজেও চাইত না।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পুর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে না দেয়ায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এমন এক অবস্থায় ১৯৭১ সালে ৭মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার মাঝে শেখ মুজিব এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ওই ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন-
'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।'
ওই ভাষণে শেখ মুজিব যে চারটি দাবী জানান সেগুলো হলো-

১.সামরিক আইন মার্শাল 'ল' তুলে নিতে হবে।
৩.সমস্ত সেনাবাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৩. যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে।
৪.আর জন প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

কেউ কেউ দাবি করেন মার্চের ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু কথা হল, তিনি যদি সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণাই দেবেন তাহলে পাকিস্তানী সরকারের উদ্দেশ্যে দাবী-দাওয়া পেশ করলেন কেন? এমনকি ভাষনের শেষে তিনি 'পাকিস্থান জিন্দাবাদ' বলে ভাষন সমাপ্ত করেন।এসব দাবী পর্যালোচনা করেই অনেকে বলে থাকেন যে, শেখ মুজিব ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। কারণ ১৩ মার্চের পর প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়ার সাথে ঢাকা বৈঠকে সমঝোতা যদি সফল হত, শেখ মুজিবুর রহমানই হতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আদৌ কোন সম্ভাবনা ছিল না। শেখ মুজিব স্বাধীনতার চিন্তা করেননি, তা ২৪শে মার্চে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রদত্ত বক্তব্য থেকে প্রমাণ মেলে। সেদিন তিনি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন,
"আমার ম্যান্ডেট স্বায়ত্ত্বশাসনের জন্য, স্বাধীনতার জন্য নয়।"
(সাংবাদিক আশরাফের প্রতি কৃতজ্ঞতা)
২৫ মার্চের আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টা ছিল দেশের অখন্ডতার পক্ষে। এ কারনে বিভিন্ন সময়ে হুমকি ধামকি দিয়ে চেষ্টা করেছেন পাকিস্থানী ম্বেরাচার শাসকদের কাছ থেকে অধিকার টুকু আদায় করতে। এমনকি ২৫ মার্চ রাতেরও গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে তিনি দেশকে বিভক্ত করার পক্ষে ছিলেন না।
''একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বাধীনতার কোনো ঘোষণা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেননি। তাজউদ্দীন আহমদ ওই রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণার ছোট্ট একটি খসড়া তৈরি করে টেপরেকর্ডারে ধারণ করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে পড়তে দেন। বঙ্গবন্ধু খসড়াটি পড়ে নিরুত্তর থাকেন এবং এড়িয়ে যান। তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষণাটি দিতে অনুরোধ জানালে বঙ্গবন্ধু উত্তর দেন,
''এটা আমার বিরুদ্ধে একটি দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের জন্য বিচার করতে পারবে।''
ইপিআর সিগন্যালসের মাধ্যমে শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠিয়েছিলেন সেটাও বোধহয় অবাস্তব কথা। চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠিয়েছিলেন বলে যে কথা বলা হয়, তাও সঠিক নয়। ভারত সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও অন্য প্রধান নেতাদের জিজ্ঞাসা করেছে যে, স্বাধীনতার ঘোষণার ব্যাপারে শেখ মুজিবুর রহমান কাউকে কিছু বলে গেছেন কিনা। এর মধ্যে জহুর আহমদ চৌধুরীও ছিলেন। ভারত সরকারকে প্রত্যেকেই বলেছেন, কাউকেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণার কথা বলে যাননি। জহুর আহমদ চৌধুরী নিজে তাজউদ্দীনকে বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণার ব্যাপারে তাকে কিছুই বলা হয়নি।'' (আমার দেশ এবং প্রিয় ডটকম http://priyo. com/forum/ 2010/mar/25/37599. html)

কিন্তু এত সবের পরেও আজ সত্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক, আওয়ামী লীগ স্বাধীসতার সোল এজেন্ট আর দীর্ঘ আন্দোলনে পাশে থেকেও জামায়াত স্বাধীনতা বিরোধী। ভাষা আন্দোলনের ইশতেহার পাঠকারী অধ্যাপক গোলাম আযম দেশদ্রোহী। ছবি নাকি ইতিহাসের কথা বলে। বহু বচর আহে ছাপা হওয়া একটি বইয়ের দুর্লভ কিছু ফটো পেয়ে গেলাম। রীতিমতো চমকে দেবার মতো। দেখা যাক ইতিহাস কি বলে।

১---পূর্ব পাকিস্থানের অধিকার আদায়ে দাবী দাওয়া তৈরীতে প্রায়শই একত্রিত হয়েছেন তৎকালীন জাতীয় নেতারা। এমনি একটি সভায় ডান থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম, পীর মোহসেন উদ্দীন দুদু মিয়া (ইংরেজ বিরোধী বিপ্লবী হাজী শরীয়াতউল্লাহর ছেলে), মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও পরবর্তীতে অস্থায়ী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)।

২----পূর্ব পাকিস্থানের অধিকার আদায়ে আয়োজিত সভা সমাবেশে উপস্থিত থেকেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম। এমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে বাম হতে ২য় অবস্থানে তাকে দেখা যাচ্ছে।

৩-----প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান (সর্ববামে) বিভিন্ন দাবী দাওয়ার প্রেক্ষিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মিলিত হন। ডান থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম, পীর মোহসেন উদ্দীন দুদু মিয়া (ইংরেজ বিরোধী বিপ্লবী হাজী শরীয়াতউল্লাহর ছেলে), মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও পরবর্তীতে অস্থায়ী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), মাওলানা মুফতি মাহমুদ, চৌধুরী মোঃ আলী (পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী)

৪---আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সকল দলকে নিয়ে সম্মিলিত আন্দোলনে তৎকালীন জামায়াতের আমীর অধাপক গোলাম আযমের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য। প্রায় প্রতিটি জোট বদ্ধ আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রগামী, আওয়ামী লীগ এটি ভালোভাবেই বুঝত। শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আন্তরিক পরিবেশে সভা করছেন অধ্যাপক গোলাম আযম (ডান থেকে ৩য়)

৫---স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে সকল বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় ডাক জোট। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে আওয়ামী লীগ এতে সবার উপরে ছড়ি ঘোরানোর সম্ভাবনা না থাকায় যোগ দেয়নি। পরে অন্যতম পুরোধা ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। সর্বদলীয় সভায় অন্যতম মধ্যমনি হিসাবে দেখা যাচ্ছে তাকে।

৬---জাতীয় নির্বাচনের দাবীতে সকল বিরোধী দল ছিল একাট্টা। প্রতিটি দলের দাবী ছিল এক এবং সম্মুখে থেকে জামায়াতে পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম। সর্বদলীয় সভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে।

৭-- দুর্লভ পেপার কাটিং। এর পরেও কি বলা হবে জামায়াত আগা গোড়া দেশদ্রোহীতায় লিপ্ত ছিল? ডান পাশের বিবৃতি প্রকাশ হয় দৈনিক আজাদের ১০ মার্চ ১৯৭১ সংখ্যায় ডাতে শেখ মুজিবকে ৭ মার্চের ভাষনের জন্য জামায়াত অভিনন্দন জানিয়েছিল এবং অবিলম্বে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তাস্তরের জোর দাবী জানিয়েছিলেন তৎকালীন জামায়াত নেতারা। ডান পাশের বিবৃতিটি প্রকাশিত হয় ১৭ মার্চ ১৯৭১। দেশকে চুড়ান্ত বিভক্তি থেকে রক্ষার জন্য শেখ মুজির-ইয়াহইয়ার বৈঠকের সফলতা কামনা করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়াকে দ্রুত শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবী জানান অধ্যাপক গোলাম আযম। বোধগম্য করবার জন্য পুরাতন কাটিং এর ভেতরের কথাই এর সত্যতার জন্য যথেষ্ট।

৮---শেখ মুজিবর রহমানের সাথে জাতীয় নেতৃবৃন্দের অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার এবটি বিশেষ মুহূর্তে অধ্যাপক গোলাম আযমকে দেখা যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতার আড়াগোড়া বিপক্ষে তথাকথিতঅবস্থানকারীর সাথে স্বাধীনতার স্থপতির আন্তরিকতার এ ছবিটি সত্য নাকি স্বাধীনতার পর হতে বাকী অপপ্রচার সত্য?

৯----প্রতিটি দাবী দাওয়ার সাথে জামায়াত আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় ভাবে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। শুধু অধ্যাপক গোলাম আযম নয় বরং তৎকালীন জামায়াতের সর্বোচ্চ নেতা মাওলানা মওদূদীও ছিলেন স্বৈরাচার বিরোধী ন্যায় সঙ্গত অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগী।

স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আগাগোড়া সব কিছুর সাক্ষী। বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর হতে ১৫ আগস্ট মুত্যুর আগ পর্যন্ত অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোন কথা বলেননি। চ্যালেঞ্জ রইল যদি কেউ প্রমাণ দেখাতে পারেন, আমার এই মন্তব্য ডিলিট করে দেব।



পূর্ব পাকিস্থানের অধিকার আদায়ে দাবী দাওয়া তৈরীতে প্রায়শই একত্রিত হয়েছেন তৎকালীন জাতীয় নেতারা। এমনি একটি সভায় ডান থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম, পীর মোহসেন উদ্দীন দুদু মিয়া (ইংরেজ বিরোধী বিপ্লবী হাজী শরীয়াতউল্লাহর ছেলে), মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও পরবর্তীতে অস্থায়ী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)।

পূর্ব পাকিস্থানের অধিকার আদায়ে আয়োজিত সভা সমাবেশে উপস্থিত থেকেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম। এমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে বাম হতে ২য় অবস্থানে তাকে দেখা যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান (সর্ববামে) বিভিন্ন দাবী দাওয়ার প্রেক্ষিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মিলিত হন। ডান থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম, পীর মোহসেন উদ্দীন দুদু মিয়া, মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, মাওলানা মুফতি মাহমুদ, চৌধুরী মোঃ আলী (পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী)

আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সকল দলকে নিয়ে সম্মিলিত আন্দোলনে তৎকালীন জামায়াতের আমীর অধাপক গোলাম আযমের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য। প্রায় প্রতিটি জোট বদ্ধ আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রগামী, আওয়ামী লীগ এটি ভালোভাবেই বুঝত। শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আন্তরিক পরিবেশে সভা করছেন অধ্যাপক গোলাম আযম (ডান থেকে ২য়)

স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে সকল বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় ডাক জোট। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে আওয়ামী লীগ এতে সবার উপরে ছড়ি ঘোরানোর সম্ভাবনা না থাকায় যোগ দেয়নি। পরে অন্যতম পুরোধা ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। সর্বদলীয় সভায় অন্যতম মধ্যমনি হিসাবে দেখা যাচ্ছে তাকে।

জাতীয় নির্বাচনের দাবীতে সকল বিরোধী দল ছিল একাট্টা। প্রতিটি দলের দাবী ছিল এক এবং সম্মুখে থেকে জামায়াতে পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম। সর্বদলীয় সভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে।

দুর্লভ পেপার কাটিং। এর পরেও কি বলা হবে জামায়াত আগা গোড়া দেশদ্রোহীতায় লিপ্ত ছিল? ডান পাশের বিবৃতি প্রকাশ হয় দৈনিক আজাদের ১০ মার্চ ১৯৭১ সংখ্যায় ডাতে শেখ মুজিবকে ৭ মার্চের ভাষনের জন্য জামায়াত অভিনন্দন জানিয়েছিল এবং অবিলম্বে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তাস্তরের জোর দাবী জানিয়েছিলেন তৎকালীন জামায়াত নেতারা। ডান পাশের বিবৃতিটি প্রকাশিত হয় ১৭ মার্চ ১৯৭১। দেশকে চুড়ান্ত বিভক্তি থেকে রক্ষার জন্য শেখ মুজির-ইয়াহইয়ার বৈঠকের সফলতা কামনা করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়াকে দ্রুত শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবী জানান অধ্যাপক গোলাম আযম। বোধগম্য করবার জন্য পুরাতন কাটিং এর ভেতরের কথাই এর সত্যতার জন্য যথেষ্ট।

শেখ মুজিবর রহমানের সাথে জাতীয় নেতৃবৃন্দের অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার এবটি বিশেষ মুহূর্তে অধ্যাপক গোলাম আযমকে দেখা যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতার আড়াগোড়া বিপক্ষে তথাকথিতঅবস্থানকারীর সাথে স্বাধীনতার স্থপতির আন্তরিকতার এ ছবিটি সত্য নাকি স্বাধীনতার পর হতে বাকী অপপ্রচার সত্য?

প্রতিটি দাবী দাওয়ার সাথে জামায়াত আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় ভাবে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। শুধু অধ্যাপক গোলাম আযম নয় বরং তৎকালীন জামায়াতের সর্বোচ্চ নেতা মাওলানা মওদূদীও ছিলেন স্বৈরাচার বিরোধী ন্যায় সঙ্গত অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগী।


পূর্ব পাকিস্থানের অধিকার আদায়ে দাবী দাওয়া তৈরীতে প্রায়শই একত্রিত হয়েছেন তৎকালীন জাতীয় নেতারা। এমনি একটি সভায় ডান থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম, পীর মোহসেন উদ্দীন দুদু মিয়া (ইংরেজ বিরোধী বিপ্লবী হাজী শরীয়াতউল্লাহর ছেলে), মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও পরবর্তীতে অস্থায়ী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)।

পূর্ব পাকিস্থানের অধিকার আদায়ে আয়োজিত সভা সমাবেশে উপস্থিত থেকেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম। এমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে বাম হতে ২য় অবস্থানে তাকে দেখা যাচ্ছে।


প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান (সর্ববামে) বিভিন্ন দাবী দাওয়ার প্রেক্ষিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মিলিত হন। ডান থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম, পীর মোহসেন উদ্দীন দুদু মিয়া, মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, মাওলানা মুফতি মাহমুদ, চৌধুরী মোঃ আলী (পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী)



আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সকল দলকে নিয়ে সম্মিলিত আন্দোলনে তৎকালীন জামায়াতের আমীর অধাপক গোলাম আযমের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য। প্রায় প্রতিটি জোট বদ্ধ আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রগামী, আওয়ামী লীগ এটি ভালোভাবেই বুঝত। শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আন্তরিক পরিবেশে সভা করছেন অধ্যাপক গোলাম আযম (ডান থেকে ২য়)

স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে সকল বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় ডাক জোট। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে আওয়ামী লীগ এতে সবার উপরে ছড়ি ঘোরানোর সম্ভাবনা না থাকায় যোগ দেয়নি। পরে অন্যতম পুরোধা ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। সর্বদলীয় সভায় অন্যতম মধ্যমনি হিসাবে দেখা যাচ্ছে তাকে।

প্রতিটি দাবী দাওয়ার সাথে জামায়াত আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় ভাবে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। শুধু অধ্যাপক গোলাম আযম নয় বরং তৎকালীন জামায়াতের সর্বোচ্চ নেতা মাওলানা মওদূদীও ছিলেন স্বৈরাচার বিরোধী ন্যায় সঙ্গত অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগী।


দুর্লভ পেপার কাটিং। এর পরেও কি বলা হবে জামায়াত আগা গোড়া দেশদ্রোহীতায় লিপ্ত ছিল? ডান পাশের বিবৃতি প্রকাশ হয় দৈনিক আজাদের ১০ মার্চ ১৯৭১ সংখ্যায় ডাতে শেখ মুজিবকে ৭ মার্চের ভাষনের জন্য জামায়াত অভিনন্দন জানিয়েছিল এবং অবিলম্বে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তাস্তরের জোর দাবী জানিয়েছিলেন তৎকালীন জামায়াত নেতারা। ডান পাশের বিবৃতিটি প্রকাশিত হয় ১৭ মার্চ ১৯৭১। দেশকে চুড়ান্ত বিভক্তি থেকে রক্ষার জন্য শেখ মুজির-ইয়াহইয়ার বৈঠকের সফলতা কামনা করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়াকে দ্রুত শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবী জানান অধ্যাপক গোলাম আযম। বোধগম্য করবার জন্য পুরাতন কাটিং এর ভেতরের কথাই এর সত্যতার জন্য যথেষ্ট।