Saturday, 1 October 2011

ফুলবাড়ী সীমান্ত থেকে ২ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিদ্যাবাগিশ সীমান্ত থেকে দুই বাংলাদেশী যুবককে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে। মারধর শেষে গতকাল সকালে ওই দুই যুবককে বিএসএফ জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিজিবি তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকালে উপজেলার বিদ্যাবাগিশ ঠোস সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলার ৯৩৯ এর পাশের ভারতীয় অভ্যন্তরে নগরকুরষা সীমান্তে।
বিজিবি ও দুই যুবকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী বিদ্যাবাগিশ ঠোস গ্রামের কৃষক মোজাহার আলীর ছেলে মজিদুল ইসলাম ও নজির হোসেনের ছেলে হুজুর আলী নামের দুই যুবক বুধবার তাদের বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী ভারতীয় নগরকুরষা সীমান্তের আত্মীয় জয়নাল পাগলার বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। জয়নাল পাগলা আটককৃত যুবক হুজুর আলীর আপন চাচা। ওই বাড়িতে বিকাল ৪টায় তারা ভাত খেতে বসে। কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার কুরষাহাট
ক্যাম্পের বিএসএফ তাদের ভাত খাওয়া অবস্থায় ধরে নিয়ে যায়। বিএসএফ সদস্যরা দুই যুবককে ক্যাম্পে নিয়ে মারধর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশী দুই যুবককে ফেরত আনার ব্যাপারে কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবির ফুলবাড়ী গঙ্গারহাট বিওপির নায়েব সুবেদার নিশিকান্ত ও হাবিলদার আইয়ুব আলী জানান, তারা দুই যুবককে ফেরত পেতে পদক্ষেপ নেয়ার আগেই বিএসএফ তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে। তবে ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে তারা বিএসএফকে পত্র দেবেন।

Saturday, 24 September 2011

সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে অধিকারের কেসস্টাডি : কারণ ছাড়াই বিএসএফ গুলি করে মেরেছে সিলেটের আশরাফুলকে



স্টাফ রিপোর্টার

সীমান্তে ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষী (বিএসএফ) গুলি চালিয়ে নিরপরাধ বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে অধিকার’র অনুসন্ধানে। সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী কালিডর ধলাই নদী এলাকায় পাথরের কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে বিএসএফ’র গুলিতে প্রাণ হারায় আশরাফুল। আশরাফুলকে নির্দয়ভাবে হত্যা করার ঘটনাটি বেসরকারি সংস্থা অধিকার কেসস্টাডি হিসেবে গ্রহণ করে অনুসন্ধান চালায়।
অধিকারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ জুলাই রাত ৯টায় একই উপজেলার বাঘারপাড় গ্রামের মো. আবদুুল আহাদ ও লালবানুর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২০), একই গ্রামের মৃত কনু মিয়া ও হাওয়াতুন নেছার ছেলে সোনা মিয়া (১৯) এবং পারুয়া নোয়াগাঁও গ্রামের আফতাব আলী ও আমিরুন নেছার ছেলে এলাইছ মিয়া (২২) পাথর আনতে সীমান্ত এলাকায় ধলাই নদীর বাংলাদেশ অংশে কালিডর পাথর কোয়ারিতে যায়। ভারতের শিলং অঞ্চলের ভোলাগঞ্জ থানার কালিডর ক্যাম্পের ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আশরাফুল ও এলাইছ গুলিবিদ্ধ হয়। আশরাফুল ও এলাইছের পরিবার গুলিবিদ্ধ দুজনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে আশরাফুল মারা যায় এবং এলাইছ মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
সেখানে ৮ দিন চিকিত্সার পর বাড়িতে আনা হয়।
আবদুুল আহাদ অধিকার-কে জানান, তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম তাকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করত। ঘটনার কয়েক দিন আগে পশ্চিম ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্ট’-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আশরাফুল খেলোয়াড়দের পুরস্কার দিতে চেয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে আশরাফুল তার বন্ধু এলাইছ মিয়া ও সোনামিয়াকে নিয়ে নদী থেকে পাথর সংগ্রহ ও বিক্রি করে পুরস্কার কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনামতো ১ জুলাই আনুমানিক রাত ৮টায় আশরাফুল দু’বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হয়। রাত ৯টায় নৌকাযোগে ধলাই নদীর কালিডর পাথর কোয়ারিতে পৌঁছে। সেখানে আরও প্রায় এক-দেড়শ’ শ্রমিক পাথর তোলার জন্য গিয়েছিল। রাত আনুমানিক ৯টা ৫ মিনিটে সোনামিয়া আশরাফুলের বাবাকে মোবাইল ফোনে জানায়, তার ছেলে ও এলাইছ পাথর তোলার জন্য নদীতে গেলে ভারতের বিএসএফ সদস্যরা তাদের দিকে গুলি ছোড়ে। বিএসএফ’র ছোড়া গুলি বাংলাদেশের ২শ’ গজ ভেতরে থাকা আশরাফুল ও এলাইছের শরীরে বিদ্ধ হয়। সোনামিয়া মোবাইল ফোনে তাকে আরও জানায়, গুলিবিদ্ধ দুজনকে কোম্পানীগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত আনুমানিক ১০টায় সোনামিয়া কোম্পানীগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের উন্নত চিকিত্সার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
রাত সাড়ে ১১টায় চিকিত্সক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আবদুুল আহাদ আরও জানান, পরদিন, ২ জুলাই আশরাফুলের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে রওনা দিয়ে বাসায় পৌঁছে রাত সাড়ে ৯টায়। এর পর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি আরও জানান, আশরাফুলের মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত ৩৩টি ছররা গুলি লেগেছিল বলে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের কাছ থেকে জেনেছেন। তার অপর ছেলে নজরুল ইসলাম ২ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ থানায় গিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
এলাইছ মিয়া অধিকার-কে জানায়, ১ জুলাই সে তার বন্ধু আশরাফুল ও সোনামিয়াকে সঙ্গে নিয়ে পাথর তোলার জন্য নৌকায় করে সীমান্ত এলাকার কালিডরে যান। সেখানে তখন প্রায় এক-দেড়শ’ শ্রমিক পাথর তুলছিল। এ সময় রাতের অন্ধকারে ভারত সীমান্ত থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাদের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের কেউ পানিতেই বসে পড়ে আবার অনেকে ডাঙায় শুয়ে পড়ে। বিএসএফ সদস্যদের গুলি এসে তার এবং আশরাফুলের শরীরে লাগে। সে জানায়, সেগুলো ছররা গুলি হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে তা বিদ্ধ হয়। গুলি ছোড়া বন্ধ করে বিএসএফ সদস্যরা চলে গেলে উপস্থিত শ্রমিকদের সহায়তায় সোনামিয়া তাকে ও আশরাফুলকে চিকিত্সার জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সার পর তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সে নিজে ওই হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪নম্বর ওয়ার্ডে ৮দিন চিকিত্সা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। তার শরীরে ২৫-২৬টি ছররা গুলি লেগেছিল। সে শুনেছে, আশরাফুলের মাথায় ও বুকের নিচে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সোনামিয়া অধিকার-কে বলে, আশরাফুল ও এলাইছের সঙ্গে ১ জুলাই পাথর তোলার জন্য কালিডর এলাকায় যায়। তারা বাংলাদেশের ২শ’ গজ ভেতরে পাথর তোলার জন্য গেলে রাতের অন্ধকারে বিএসএফ সদস্যরা তাদের দিকে গুলি ছোড়ে। এতে আশরাফুল ও এলাইছ গুলিবিদ্ধ হয়। সে তখন মোবাইল ফোনে এলাইছ এবং আশরাফুলের বাড়িতে তাদের আহত হওয়ার খবর জানায়। সে ও শ্রমিকরা গুলিবিদ্ধ দুজনকে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিত্সার পর তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। তখন সে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্ত ডা. আবদুুল্লাহ অধিকার-কে বলেন, কয়েকজন লোক ১ জুলাই রাত ১০টায় কালিডর থেকে গুলিবিদ্ধ আশরাফুল ও এলাইছ মিয়া নামে দুজনকে নিয়ে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তিনি দুজনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের নিতে বলেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ পরির্দশক কামাল আহমদ অধিকার-কে বলেন, ২ জুলাই রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বাঘারপাড় গ্রামের নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি থানায় এসে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে নজরুল ইসলাম উল্লেখ করে, তার ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম ১ জুলাই বন্ধু এলাইছ মিয়া ও সোনামিয়াকে নিয়ে পাথর আনতে সীমান্ত এলাকার ধলাই নদীর বাংলাদেশ অংশে কালিডর পাথর কোয়ারিতে যায়। অজ্ঞাতনামা বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার ভাই আশরাফুল মারা যায়।
পুলিশ পরিদর্শক কামাল আহমদ এর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের কিছু অংশ নদীতে ভেঙে গেছে। সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকরা পাথর তুলতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা প্রায়ই বেআইনিভাবে গুলি ছোড়ে। এতে প্রায়ই মানুষ মারা যায়। এসব বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও জানেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র সুবেদার চান মিয়া অধিকার-কে বলেন, ১ জুলাই এ ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে অপারগ। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ সহকারী মাসুক আহমদ অধিকার-কে বলেন, ১ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫মিনিটে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা আশরাফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে আনেন। ২ জুলাই দুপুরের দিকে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। লাশের বিভিন্ন অংশে ছররা গুলি লেগেছিল। তাছাড়া লাশের শরীর থেকে বেশ কিছু গুলি বের করে পুলিশকে আলামত হিসেবে দিয়ে দেয়া হয়। আশরাফুলের লাশের গোসলদানকারী আবদুুল বারী অধিকার-কে বলেন, তিনি আজিজুল হক ও আতাউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আশরাফুলের লাশের গোসল দিয়েছেন। লাশের মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত অনেক ছররা গুলির চিহ্ন দেখেছেন বলে জানান। এছাড়া প্রচুর রক্তক্ষরণেরও চিহ্ন ছিল।
সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে অধিকার’র মন্তব্যে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার ঘটনা অবিরত ঘটেই চলেছে। গত ১২ মার্চ ভারতের নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও বিএসএফ’র মধ্যে ৫দিনের বৈঠকের শেষ দিনে বিএসএফ’র মহাপরিচালক রমন শ্রীবাস্তব জানান, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত আর প্রাণঘাতী অস্ত্র চালাবে না; তবুও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করে ভারত নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের নির্বিচারে হত্যা করছে

ভারতে দলিতদের চেয়ে মুসলমানদের অবস্থা খারাপ


স্টাফ রিপোর্টার
ভারতে নিম্নবর্ণের হিন্দু দলিতদের চেয়ে মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। কিছুসংখ্যক মুসলমানের অবস্থার উন্নতি হলেও এ চিত্র ভারতীয় আর্থসামাজিক অবস্থার অসামঞ্জস্যেরই ইঙ্গিত বহন করে। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে টিকে থাকতে এবং বহিঃশক্তির প্রভাবে মুসলমানরা বহুধাবিভক্ত হয়েছে। আর এই বিভক্তি তাদের জন্য অনেকটাই অপমানের।
নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের এক তারবার্তা প্রকাশ করে এমন খবর দিয়েছে সাড়াজাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ‘ইউএস ভিউজ অন ইন্ডিয়ান ইসলাম অ্যান্ড ইটস ইন্টারপ্রেটেশন’ শিরোনামে দিল্লি থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো ওই তারবার্তাটি প্রকাশ করেছে উইকিলিকস।
এছাড়া তারবার্তাটিতে ভারতীয় মুসলমানদের শিয়া-সুন্নির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেরেলভি ও দেওবন্দির গ্রুপের মতো পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, ভারতে অন্তত ১৮ কোটি মুসলমান রয়েছে, যা ভারতের আদমশুমারিতে অনেক কম দেখানো হয়েছে। ভারতীয় অনেক সূত্রের বরাত দিয়ে তারবার্তাটিতে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাব (আদমশুমারি ২০০১) অনুযায়ী ভারতে মুসলমানের সংখ্যা ১৩ কোটি ৮০ লাখ। কিন্তু আমেরিকা মনে করে, ভারতে মুসলমানের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের মতে, সংখ্যাটি ১৬ থেকে ১৮ কোটি।
তারবার্তায় ভারতীয় মুসলমানদের উদারপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছে, আজিম প্রেমজির মতো কোটিপতি থাকলেও ভারতে বেশিরভাগ মুসলমানের অবস্থা খুবই খারাপ। তারবার্তায় মন্তব্য করা হয়, কোটিপতি মুসলিম ভারতীয়রা দেশটির অর্থনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের মতো আইকনদের অসংখ্য ভক্ত রয়েছে ভারতে। তবে সেখানকার মুসলমানরা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। তারবার্তায় বলা হয়, ভারতের পার্লামেন্ট বা অন্যান্য নির্বাচনী বডিতে মুসলমানদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।

Tuesday, 16 August 2011

সিলেট সীমান্তে বিএসএফ ও খাসিয়াদের গুলিতে নিহত ২











দেলোয়ার হোসেন জৈন্তাপুর (সিলেট)
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ এবং খাসিয়া নাগরিকদের যৌথ আক্রমণে গুলিতে দুই বাংলাদেশী পাথর শ্রমিক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। গতকাল ভোররাতে বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে ১২৬৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয়রা তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুলি করে হত্যা করে। এনিয়ে সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি-চিদাম্বরম গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশ সফরকালে ওয়াদা করেছিলেন সীমান্তে আর কোনো বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করা হবে না। তার এ প্রতিশ্রুতির মাত্র ১১ দিনের মাথায় গুলি করে বাংলাদেশী জোড়া খুন করল ভারত। এর আগে গত ২৩ জুলাই
ভারতীয় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী বাংলাদেশ সফরের দিনও সীমান্তে বাংলাদেশী খুন করেছিল ভারত।
সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে ভারতীয়দের গুলিতে গতকাল নিহতরা হলেন, বিছনাকান্দি গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে কামাল উদ্দিন জহুর (৩২) ও ইরফান আলীর ছেলে কামাল আহমদ (৩০)। আহত হয়েছেন একই গ্রামের সারং উদ্দিনের ছেলে ইমাম উদ্দিন। গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকারে করে বলেছেন, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা লাশ দুটি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসন লাশ সিলেটে ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে চাইলে আত্মীয় ও এলাকাবাসী আপত্তি জানায়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সম্মতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে আসা এক শ্রমিক জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারির বগাইয়া নদীতে ১২৬৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাথর উত্তোলন করতে যায় তিন শ্রমিক। এ সময় বিএসএফ ও ভারতীয় খাসিয়ারা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই দু’জন বাংলাদেশী শ্রমিক মারা যায়। একজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পালিয়ে আসা আহত শ্রমিক গ্রামবাসীদের ঘটনা জানালে লাশের সন্ধানে গ্রামের মানুষ ঘটনাস্থলে যায়। তারা লাশের সন্ধান করতে থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভোর ৬টায় একজন এবং সকাল ৯টায় আরও একজনের লাশের সন্ধান পান তারা। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট সেক্টরের অধিনায়ক লে. কর্নেল শফিউল আজম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সন্ধ্যার পর কোয়ারি এলাকায় পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও এসব শ্রমিক রাতের আঁধারে সেখানে গিয়েছিল। তিনি জানান, বিজিবি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং বিএসএফ’র সঙ্গে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। গত সন্ধ্যায় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। গোয়াইনঘাট থানার ওসি ইউনুছ মিয়া জানান, ভোর সাড়ে ৪টায় ১২৬৩ সীমানা পিলারের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোয়ারি এলাকার বগাই নদীতে নৌকাযোগে পাথর উত্তোলন করতে যান কয়েকজন বাংলাদেশী। এ সময় ভারতীয়রা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওসি আরও জানান, আত্মীয় ও এলাকাবাসীর দাবির কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষ লাশ হস্তান্তর করা হয়। বিকাল ৫টায় বিছনাকান্দি জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী শ্রমিক নিহত হওয়ায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সিলেট ৪-আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি দিলদার হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, বিএসএফ’র গুলিতে পাথর শ্রমিক নিহত হওয়া আবারও ভারত জাতীয় বেইমানির পরিচয় দিল। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি-চিদাম্বরম বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছিলেন সীমান্তের লোকজনের ওপর আর কোনো গুলি চালাবে না ভারত, এতে প্রমাণ হয় ভারত তার দৃষ্টিভঙ্গি বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেনি।
এ ব্যাপারে গেয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী জানান, তিনি ঘটনার সংবাদ শুনে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ঘটনার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি, নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য আবেদন জানালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে লাশ দাফনের সুযোগ দিয়েছি।
ইলিয়াস আলীর প্রতিবাদ : বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনিপর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী এক বিবৃতিতে সিলেটের গোয়াইনঘাটে বিছনাকান্দি সীমান্তে ভারতীয়দের গুলিতে দু’জন নিরীহ বাংলাদেশী নিহত হওয়ায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একের পর এক হামলা চালিয়ে নিরীহ বাংলাদেশীদের অব্যাহতভাবে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে। ভারতের সেবাদাস এ সরকার এসব হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হামলা এবং জমি দখলের প্রচেষ্টার ন্যূনতম কোনো প্রতিবাদ করছে না। সীমান্তে যৌথ জরিপের নামে একতরফাভাবে বাংলাদেশের জনগণের বসতভিটা ভারতীয়দের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত করছে। এরই মধ্যে সরকার পাদুয়া, বিবির হাওড় ও বিছনাকান্দিসহ সীমান্তে একতরফা জরিপ করে যাচ্ছে। সরকার ভারতীয়দের নীল নকশানুযায়ী সীমান্তে জরিপ চালাচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁবেদার শেখ হাসিনা সরকার একদিকে বাংলাদেশের ভূমি প্রহসনের জরিপের মাধ্যমে ভারতীয়দের হাতে তুলে দিচ্ছে। অপরদিকে ভারতীয়রা সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। সরকারের ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি সীমান্ত আজ অরক্ষিত। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার ভারতের কাছে বাংলাদেশের জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/08/13/98971

Friday, 5 August 2011

সৌদি আরব থেকে ফেরত আসছে ১০ লাখ বাংলাদেশী : বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার ভারতের

সৈয়দ মিজানুর রহমান সৌদি আরব থেকে
আকামা (ওয়ার্কপারমিট) পরিবর্তন জটিলতার কারণে সৌদি আরব থেকে প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীকে ছয় মাসের মধ্যে দেশে ফিরে যেতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ হয়ে যাওয়ায় এসব বাংলাদেশীর জেল-জরিমানা ও পুলিশি নির্যাতন শুরু হয়েছে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, দেশটিতে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত অর্ধেক প্রবাসী বাংলাদেশীই এখন অবৈধ। কারণ গত প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে বাংলাদেশীদের ওয়ার্কপারমিট নবায়ন বন্ধ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেড় বছর আগে সৌদি আরব সফরকালে সৌদি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আকামা পরিবর্তন ও নবায়ন জটিলতা দূর হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি সৌদি আরব সফর করে এ বিষয়ে তেমন কোনো উলেল্গখযোগ্য সাড়া পাননি বলে জানা গেছে। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এড়িয়ে যান বলেও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রুমি সাঈদ জানান।
জানা গেছে, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময় সৌদি আরবের ছোট-বড় বহু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশীরা বেকার হয়ে পড়ে। তবে বছরখানেকের মধ্যেই সৌদি আরব অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠে এবং বহু নতুন কোম্পানি চালু হয়। বেকার এসব বাংলাদেশী ওইসব কোম্পানিতে চাকরি নেয়। কিন্তু জটিলতা দেখা দেয় আকামা পরিবর্তন নিয়ে।
সৌদি সরকার গত সাড়ে চার বছর ধরে বাংলাদেশীদের আকামা পরিবর্তন ও নবায়ন পুরোপুরি বন্ধ রাখায় নতুন নিয়োগকর্তাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এসব বাংলাদেশীকে বৈধ করতে পারছেন না। অন্যদিকে কিছু সৌদি স্পন্সর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বহু বাংলাদেশী প্রবাসীকে সৌদি আরবে আকামা দেয়। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কাগজসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নবায়ন বন্ধ করে দেয়। যার ফলে তাদের অধীনে আসা বাংলাদেশীরা পড়ে বিপাকে।
কথা হয় আভায় কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিক হাসান মাহমুদের সঙ্গে। তিনি জানান, গত দেড় বছর ধরে তিনি একটি কোম্পানিতে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু তার আকামা পরিবর্তন হয়নি। কথা ছিল এ বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। কিন্তু আকামা না হওয়ায় তার দেশে ফেরা বা এখানে থাকা দুটিই অনিশ্চিত। যে কোনো মুহূর্তে সৌদি পুলিশ অবৈধ অবস্থানের অভিযোগে তাকে জেল-জরিমানাসহ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে।
রিয়াদের একটি শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশী নাগরিক কবির হোসেন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৌদি আরবের বিভিন্ন কেম্প্পানিতে নিয়োজিত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী এখন অবৈধ। আকামা বদল না হওয়ায় এদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশে ফিরে যেতে হবে। অথচ এদের অনেকেরই এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে আসার খরচই ওঠেনি। এদের অধিকাংশই গ্রামের ভিটেমাটি বিক্রি করে ভাগ্য বদলের আশায় এখানে এসেছিলেন।
মদিনায় গত এক বছর ধরে অবৈধভাবে কাজ করছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ মদিনা শাখার সভাপতি ইদ্রিস আলী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা আমাদের এ চরম ভোগান্তির কারণ। তিনি জানান, তার মতো আরও লাখ লাখ বাংলাদেশী চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্যে এখানে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, বিদেশিদের জন্য সৌদি আরবে আকামার মেয়াদ থাকে ৩ থেকে ৫ বছর। এর মধ্যেই আকামা নবায়ন বা পরিবর্তনের সুযোগ আছে। তবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইনসহ অন্য সব দেশের জন্যই আকামা নবায়ন বা পরিবর্তনের দরজা খোলা রয়েছে। ওইসব দেশের নাগরিকদের কোনো ভোগান্তিও নেই। কিন্তু ২০০৭ সালে হঠাত্ করেই বাংলাদেশী নাগরিকদের কাজের জন্য নতুন ভিসা, আকামা নবায়ন ও পরিবর্তন বন্ধ করে দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরপর আশ্বাস পাওয়া গেছে চালুর। কিন্তু চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে তা আর হচ্ছে না।
বর্তমানে জেদ্দায় অবস্থানরত গেল্গাবাল ইকোনমিস্ট ফোরামের সভাপতি এনায়েত করিম অভিযোগ করেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দেশের ভাব-মর্যাদা উন্নয়নে কোনো রকম উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার। তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে ভারতের একটি নিজস্ব পত্রিকা রয়েছে। তাছাড়া ভারতের প্রায় সবক’টি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা সৌদি আরবের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। এতে অতি সহজেই ভারত তাদের নিজেদের ইমেজ তৈরি এবং বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় এগিয়ে যাচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সৌদি আরবে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজার দখল করা। আর এতে বাড়তি সুযোগ পাচ্ছে ভারতীয় শ্রমিকরা।

Saturday, 9 July 2011

ফরেন পলিসি' ম্যাগাজিনের রিপোর্ট ভারত-দুর্গের জন্য বাংলাদেশ ঘিরে দিল্লীর বার্লিন প্রাচীর

শাহেদ মতিউর রহমান : বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত এখন ক্রমেই বিশ্বের অন্যতম রক্তঝরা একটি সীমান্তাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সীমান্তবিষয়ক জটিলতার সংবাদ শিরোনাম হলেও সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু ঘটনা প্রবাহ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের এই সীমান্তের হত্যাকান্ড নিয়ে বেশ উদ্বেগেরও সৃষ্টি করেছে। সূত্রে প্রকাশ গত এক দশকে দু'দেশের এক হাজার ৭৯০ মাইল দীর্ঘ এই সীমান্ত ঘিরে প্রায় এক হাজার নিরপরাধ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ভারত তার ২৫ সালা সীমান্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজটিও প্রায় সম্পন্ন করেছে। আগামী বছরের মধেই এর পুরো কাজটি তারা শেষ করতে চাইছে। তবে এত বড় একটি সীমানা ঘিরে ভারতের বেড়া নির্মাণের পরেও সীমান্তের এই হত্যাকান্ডের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। অনেকে আজ প্রশ্ন তুলেছেন তাহলে কী ভারত-দুর্গের জন্য বাংলাদেশ ঘিরে দিল্লীর কোন বার্লিন প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ফরেন পলিসি তাদের ২০১১ এর জুলাই-আগস্ট সংখ্যায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে নির্বিচারে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের ওপরে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। স্কট কার্নি, জ্যাসন মিকলেইন ও ক্রিসটেইন হোলসারের সেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ফেলানী হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে তুলে ধরা হয়েছে গত এক দশকের সীমান্ত হত্যার লোমহর্ষক নানা কাহিনী।
ম্যাগাজিনের ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছে সীমান্তে বেড়া নির্মাণকে ভারতীয়রা তাদের জন্য একটি সর্বরোগ হরণকারী প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের বিবেচনায় এই বেড়া নির্মাণের ফলে মুসলিম জঙ্গিবাদ ও কাজের সন্ধানে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশকারী বিদেশীদের আটকানো সহজ হবে। কিন্তু তার পরেও সীমান্তে যেভাবে হত্যাকান্ড চলছে তা বিশ্ব বিবেকের দরজায় আজ কড়া নাড়ছে।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভারতের এই নির্বিচার হত্যাকান্ড বন্ধ করতে ভারতের উচ্চ পর্যায়ে বার বার আবেদন নিবেদন জানানোর পরেও কিন্তু এই হত্যাকান্ড বন্ধ হচ্ছে না। তবে তারা অনেক সময়েই আমাদেরকে এই বলে ওয়াদা দিয়েছে ও আশ্বস্ত করেছে যে তারা আর কোন হত্যাকান্ড ঘটাবে না কিংবা সীমান্তে তারা কোন ভারী অস্ত্রও আর ব্যবহার করবে না। কিন্তু কখনোই তারা বাস্তবে তাদের সেই কথা কিন্তু রাখেনি।
উপরন্তু ভারতের কর্তা ব্যক্তিরা বাংলাদেশীদের বিভিন্নভাবে অপরাধী সাজিয়ে এই হত্যাকান্ড অব্যাহত রেখেছে। এদিকে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম' এর প্রধান কর্মকর্তা কিরিটি রায় বলেছেন সাধারণত সীমান্তের লাইন ম্যানের সাথে অর্থ লেনদেন ছাড়া কেউই বেড়া পারাপারের জন্য ঝুঁকি নেন না। তারা বিএসএফকে ঘুষ দিয়ে অন্যমনস্ক করে অবৈধ অভিভাসীদের সীমান্ত পারাপারে সহায়তার এই কাজটি করে থাকে। ভারতের এই মানবাধিকার সংগঠনটি গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের অধিকার ও হিউম্যান রাইটস এর সাথে যৌথ উদ্যোগে সীমান্ত হত্যাকান্ড ও সমসাময়িক বিষয়ে একটি জরিপ কাজ পরিচালনা করে তাদের গবেষণা প্রতিবেদনও প্রকাশ করে। ঐ প্রতিবেদনে মাসুম এর প্রধান কিরিটি বলেন, সীমান্তে ঘুষ প্রথার কারণেই সেখানে এই হত্যাকান্ড বেশি ঘটে। ঘুষ না দিয়ে যদি কেউ সীমান্ত পার হতে চেষ্টা করে তাহলে লাইনম্যানরা বিষয়টি অস্ত্রধারী বিএসএফকে জানিয়ে দেয় এবং গুলী চালাতে উৎসাহিত করে।
সীমান্তে এই হত্যাকান্ডকে বৈধতা দেয়ার জন্য ভারতীয়রা বরাবরই নানা যুক্তি তুলে ধরে আসছে। তারা অনেক সময় বলে বেড়ায় নেহায়েত আত্মরক্ষার জন্যই সীমান্তরক্ষীরা গুলী চালাতে বাধ্য হয়। নচেৎ তারা কখনো গুলী করে না। তবে ভারতীয় এই কর্তা ব্যক্তিদের বক্তব্য যে কতটা মিথ্যাচার আর সত্যের অপলাপ তার প্রমাণও পাওয়া যায় মাসুম অধিকার ও হিউম্যান রাটস'র পরিচালিত জরিপের ঐ গবেষণা প্রতিবেদনে। তিনটি সংস্থার যৌথভাবে পরিচালিত ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত এক দশকে সীমান্তে নিহত হয়েছে এমন একজনেরও পরিচয় পাওয়া যায়নি যিনি সীমান্ত পার হতে গিয়ে কোন অস্ত্র বহন করেছেন। প্রতিবেদনে এই তথ্যটিই এসেছে যে বড়জোর তার হাতে হয়তো একটি লাঠি বা কাস্তে ছিল। সংগঠন তিনটি সীমান্তে নিরীহ মানুষের ওপরে বিএসএফ'র বিরুদ্ধে নির্যাতন চালানোরও অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=57059

সীমান্তে বিএসএফ যেভাবে বাংলাদেশী হত্যা করছে

অলিউল্লাহ নোমান
নানা কৌশলে সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করছে বিএসএফ। বন্দুকের গুলির পাশাপাশি পাথর নিক্ষেপ করে এবং পিটিয়েও বাংলাদেশী হত্যা করা হচ্ছে। সীমান্তে পাখির মতো মানুষ হত্যা করছে বিএসএফ। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও মানবাধিকারের কোনো তোয়াক্কা করছে না তারা। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের সীমান্তে এত মানুষ খুন হয় না। শুধু খুন নয় ভূমি দখলেও মরিয়া ভারত।চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্তে বিএসএফের হাতে ১৭ জন বাংলাদেশী নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর বাইরে চলতি মাসের প্রথম ৬ দিনে আরও ২ জন বাংলাদেশীকে বিএসএফ হত্যা করেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিএসএফের নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৪৯ জন বাংলাদেশী নাগরিক। অপহরণ করা হয়েছে ৫ জনকে। সর্বশেষ গত ২ জুলাই সিলেটের ভোলাগঞ্জ সীমান্তে এক যুবককে গুলি করে এবং ৩০ জুন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে এক যুবককে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়। ভারত বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করবে না বলে বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও রক্ষা করছে না। গত ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২৬ মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৩৬ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৭০ জন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তথ্য অনুযায়ী ২০১১ সালেও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আগের বছরগুলোর মতোই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মানুষ খুন হচ্ছে, পিটিয়ে মারা হচ্ছে এমনকি বিষাক্ত ইনজেকশনও দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশীদের। গত ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তের ৯৪৭ আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের কাছ দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় ফেলানী খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে। পাঁচ ঘণ্টা তার লাশ সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখার পর ভারতে নিয়ে যায়। ত্রিশ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের কাছে ফেলানীর লাশ হস্তান্তর করে বিএসএফ। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫ দিনব্যাপী বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফের মহাপরিচালক রমন শ্রীবাস্তব বলেন, ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে স্পর্শকাতর কিছু স্থানে প্রাণঘাতী নয়, এমন আগ্নেয়াস্ত্র দেয়া হবে। এটি পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত। এতে সফল হলে দুই দেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্তে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। বিএসএফ মহাপরিচালকের এই বক্তব্যের পর গত ১৮ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার গাজীপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বসন্তপুর গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে রেকাতুল ইসলাম (১৭) নিহত হয়। গত ৭ মে দিনাজপুর সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের ফয়জুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমানকে (৩০) সুন্দরা বিওপির প্রধান পিলার ৩১৬-এর সাব পিলার-৪ এর বিপরীতে বিএসএফ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া বিএসএফ নির্যাতনের নতুন পদ্ধতি হিসেবে বাংলাদেশীদের শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে পেট্রল ঢুকিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৬ জুন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের শাহীন, শরিফুল ইসলাম ও মুলফিক্কারকে বিএসএফ আটক করে হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাদের শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে পেট্রল ঢুকিয়ে দেয়। এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৮৩৮ নম্বর মেইন পিলারের কাছে মিজানুর রহমান নামে ২৮ বছরের এক যুবককে ২৮ জুন পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়। ভারতের ১০৪ বিএসএফের বিএসবাড়ি ক্যাম্পের টহল সদস্যদের ছোড়া গুলিতে মিজানুর রহমান নিহত হয়। বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরেই তাকে পাথর ছোড়া হয়। সীমান্তে বিএসএফের এই আক্রমণের ভয়ে এখন কৃষকরা চাষাবাদ করতেও ভয় পায়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করলেও গুলি করে বা পিটিয়ে হত্যার বিধান পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। সীমান্ত অতিক্রম করলে প্রত্যেক দেশেই পাসপোর্ট আইনে মামলা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ভারত এই বিধানের তোয়াক্কা করে না। বাংলাদেশী নাগরিককে সীমান্তের কাছাকাছি দেখলেই গুলি করছে। রাতে কোনো কোনো সীমান্তে কারফিউ জারি থাকে।