Wednesday, 29 December 2010

বাংলাদেশকে শতকোটি টাকা ঠকিয়ে ওয়ারিদ কিনেছে এয়ারটেল : দেশের টেলিকম খাতকে ভারতীয়করণের চক্রান্ত চলছে

জিয়াউদ্দিন সাইমুম

শুরুতেই বাংলাদেশকে শতকোটি টাকা ঠকিয়ে ওয়ারিদ টেলিকম কিনেছে ভারতী এয়ারটেল। অন্যদিকে ওয়ারিদ টেলিকম কেনার মাধ্যমে শুধু ভারতী এয়ারটেলই সুবিধা পায়নি, টেলিকম খাতে নতুন চাকরি সৃষ্টির নামে ভারত বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় টেলিকম খাতকে ভারতীয়করণেরও সুযোগ পেয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রান্সপোর্ট, গার্মেন্ট, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ, খাদ্যপণ্য, পানীয়সহ বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ থাকলও টেলিকম সেক্টরে এটাই প্রথম। এদিকে বছরশেষে বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে বৈ কমবে না। আর এয়ারটেল সে ঘাটতির ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
অভিযোগ রয়েছে, ভারতকে এ সুযোগটি করে দেয়ার পেছনের ব্যক্তি দু’জন হচ্ছেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহাম্মেদ রাজু এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ। কারণ ওয়ারিদ টেলিকমের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে এ দু’জন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ওয়ারিদের মোট মূল্য ১ কোটি টাকা দেখিয়ে মাত্র ৭০ লাখ টাকার বিনিময়ে ওয়ারিদ টেলিকমের ৭০ ভাগ শেয়ার কিনে নেয়ার সুযোগ করে দেন এয়ারটেলকে। তবে টেলিকম বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর পেছনে প্রশাসনের বড় কোনো কর্মকর্তার পরোক্ষ মদত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১-এর ধারা ৩৭(১) অনুসারে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স পাওয়া কোনো কোম্পানি অন্য কোনো কোম্পানির কাছে লাইসেন্স বিক্রি করতে পারবে না; কিন্তু ৩৭(৩)-এর ঝ উপধারা অনুসারে শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবে। এই শেয়ার হস্তান্তরের সময় শেয়ারমূল্যের ৫.৫ ভাগ বিটিআরসিকে দিতে হবে। ওয়ারিদের ৭০ ভাগ শেয়ারের মূল্য ৩০ কোটি টাকা দেখালে এর ৫.৫ ভাগ অর্থাত্ ১১৫.৫ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দিতে হতো। কিন্তু ৭০ শতাংশ শেয়ারের দাম নামমাত্র ৭০ লাখ টাকা দেখানোর কারণে দিতে হয়েছে ৭০ লাখ টাকার ৫.৫ ভাগ অর্থাত্ মাত্র ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে—এই আশঙ্কায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে এ আইনটিই পরিবর্তন করে ফেলে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির নামে সবচেয়ে বেশি শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে ওয়ারিদ টেলিকম লিমিটেড, যা এখন এয়ারটেলের নামে চলছে। এক তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা কাস্টমস হাউস দিয়ে আমদানি করা ১৫টি চালানে ওয়ারিদ টেলিকম এ পর্যন্ত ৬৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমদানি চালান আটক করে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা করা হলে মিথ্যা ঘোষণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। পরে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হলে শুনানির পর ঢাকা কাস্টমস কমিশনারের বিচারাদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এর বিরুদ্ধে ওয়ারিদ কাস্টমস আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে বলে জানা গেছে।
গত ২০ ডিসেম্বর হয়ে গেল এয়ারটেলের লোগো উন্মোচন তথা খোলস পরিবর্তন পর্ব। নতুন স্লোগান ‘ভালোবাসার টানে, পাশে আনে’ নিয়ে তাদের লক্ষ্য ২০১৫ সালের মধ্যে এয়ারটেলকে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ব্যবহারকারীর ভালোবাসাসিক্ত ব্র্যান্ডে পরিণত করা।
ওয়ারিদের যাত্রা শুরু হয়েছিল পহেলা বৈশাখে। এদেশের সংস্কৃতি ও লৌকিকতা তুলে ধরে চিত্রায়িত বাপ্পা মজুমদারের ‘সালাম বাংলাদেশ’ গানের মাধ্যমে। কিন্তু এয়ারটেলের প্রথম বিজ্ঞাপনটি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তো নয়ই, বরং বিজ্ঞাপনটি দেখে যে কারও ধারণা হতে পারে, এটি ভারতে চিত্রায়িত এবং ভারতীয় মডেল দ্বারা অভিনীতও বটে। ইউনিলিভারের কল্যাণে ইতোমধ্যেই দেশীয় চ্যানেলে ভারতীয় নায়ক-নায়িকাদের মুখশ্রী দেখা যাচ্ছে। শাহরুখ খানের পদধূলির সুবাদে ডেসটিনির চ্যানেল বৈশাখী একমাস অনবরত হিন্দি গানের আসর বসিয়েছিল। এখন সেই যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এয়ারটেল।
এয়ারটেল শুধু ভারতীয় মডেল দিয়ে বিজ্ঞাপন করেই ক্ষান্ত থাকেনি, তাদের লঞ্চিং বোনাঞ্জার প্রথম পুরস্কার হিসেবে তারা রেখেছে বলিউড সেলিব্রেটি জুটি সাইফ এবং কারিনার সঙ্গে ডিনারের সুযোগ। দৈনিক আমার দেশ-এর একজন পাঠকের ভাষায়, ‘ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বাদে অন্য কোনোভাবে ব্যাপারটিকে নিতে পারলাম না।’
এয়ারটেল শুরুতেই ঘোষণা দিয়েছে তারা বাংলাদেশে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। কিন্তু টেলিকরিডোর নিয়ে এয়ারটেলের দৌড়ঝাঁপ দেখে এ খাতের বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা হচ্ছে, এয়ারটেল বাংলাদেশের বিকাশমান টেলিকম খাতকে ভারতীয়করণের চেষ্টা করছে।

সিলেট সীমান্তে ভূমি জরিপ : বাংলাদেশের ৫৫ একর জমির মালিকানা দাবি ভারতীয়দের

এটিএম হায়দার, সিলেট

সিলেট সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার ভূমি জরিপ প্রক্রিয়া বিভিন্ন কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। গতকাল সোমবার কোথাও জরিপ অনুষ্ঠিত হয়নি। মেঘালয়ে বড়দিনের উত্সব, বাংলাদেশে গত সপ্তাহের ছুটি ছাড়াও মাঠপর্যায়ে সৃষ্ট কিছু সমস্যার কারণে চলতি সপ্তাহে নতুন করে জরিপ কাজ শুরু হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্রের সঙ্গে আলাপ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
একটি সূত্র মতে, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর ও কেন্দ্রীবিলে ৫৫ একর জমি জরিপ শুরু না হতেই ভারতীয়রা সেগুলোর মালিকানা দাবি করে বসেছে। ওদিকে গোয়াইনঘাটের পদুয়ায় ভারতীয়দের হাঙ্গামা সৃষ্টির কারণে সিলেট-মেঘালয় সীমান্তে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত জরিপের বিষয়টি এখন কিছুটা ঝুলে গেছে। কবে নাগাদ এখানে জরিপ শুরু হবে, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের জরিপ দলে দায়িত্ব পালনরত সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. মো. আবুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জরিপ কাজে উত্থাপন করা হয়েছে। ভারতীয়দের কাছেও তাদের কোনো ডকুমেন্ট থাকলে তা উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। কোনো অযৌক্তিক দাবি নিয়ে এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, মেঘালয়ে ক্রিসমাসের কারণে কয়েক দিন জরিপ বন্ধ রাখার জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের ভূমি রেকর্ড সার্ভে কমিশন গত ২৯ নভেম্বর তামাবিল সীমান্তে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিরোধপূর্ণ ভূমির জরিপ শুরুর সিদ্ধান্তে ঐকমত্য হয়। সে মোতাবেক ৭ ডিসেম্বর গোয়াইনঘাট উপজেলা ভূমি অফিসের লোকজন প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে ৮ ডিসেম্বর মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করেন। জরিপ চলাকালে জৈন্তাপুরের ডিবিবিলে ভারতীয়রা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভূমির মালিকানা দাবি এবং পদুয়ায় ভারতীয়দের উসকানিমূলক আচরণ জরিপকাজ ব্যাহত করেছে। তবে কানাইঘাটে সমস্যা ছাড়াই জরিপ সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুই দেশের জরিপ দলের গোয়াইনঘাটের পদুয়া ও জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর কেন্দ্রীবিলে জরিপ শুরুর কথা থাকলেও তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে দেখা যায়নি। কী কারণে জরিপ শুরু হচ্ছে না, সে সম্পর্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আগের সপ্তাহে জরিপ চলাকালে জৈন্তাপুর-মুক্তাপুর সীমান্তে ডিবির হাওর কেন্দ্রীবিলে ৫৫ একর জমি ভারতীয়রা নিজেদের বলে দাবি করায় জরিপ স্থগিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি উভয় দেশের জরিপ দল নিজ নিজ দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় একটি পত্রিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশী নাগরিকদের বাড়াবাড়ির কারণে পদুয়া ও মুক্তাপুরে জরিপ কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিলেটে ২১ রাইফেলসের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল খায়রুল কাদিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে বিডিআর বা বাংলাদেশী নাগরিকদের বাধা প্রদানের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, বিডিআর জরিপে অংশ নিচ্ছে না। জরিপ দলের সীমান্ত অতিক্রম ও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু বিডিআর দেখে আসছে। জৈন্তিয়া শেকড় সন্ধানী গ্রুপের সদস্যসচিব নুরুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় নাগরিকদের ‘মামা বাড়ির আবদার’ রক্ষা না হওয়ায় সিলেটে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জরিপের বিষয়টি স্থগিত হয়ে গেছে। গত ১৪ ডিসেম্বর জরিপ শুরুর আগেই ভারতের মেঘালয়ের মুক্তাপুর থানার লোকজন সমবেত হয়ে বাংলাদেশের ৫৫ একর জমি তাদের বলে দাবি জানাতে থাকে। এমনকি তারা এই জমি তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানায়। বাংলাদেশ জরিপ দল তাদের এই আবদারে সাড়া না দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার থেকে যথারীতি জরিপ পরিচালনায় অনড় মনোভাব দেখায়। ফলে দুই দেশের জরিপ দলের ঐকমত্য না হওয়ায় তা স্থগিত হয়ে যায়। দুই দেশই তাদের ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানায় বলে ভারতীয় পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে। একটি ভারতীয় পত্রিকায় মুক্তাপুর-জৈন্তাপুর সীমান্তে জরিপ না হওয়ার জন্য সরাসরি বাংলাদেশের বাসিন্দাদের অভিযুক্ত করে। পত্রিকায় বলা হয়, ভারতের ১৩ সদস্যের জরিপ দল জৈন্তিয়া হিল ডিস্ট্রিক্টের মুক্তাপুর থানার কামপ্লিইং নদীতে সার্ভের জন্য বর্তমানে জরিপ শুরুর অপেক্ষা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর-পদুয়ায় দুই দেশের সীমান্ত জরিপে বাংলাদেশ পক্ষে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব ড. মো. আবুল হাসান এবং ভারতীয় মেঘালয়ের জরিপ বিভাগের সহকারী পরিচালক এ সাম পিয়াং জরিপ কাজে নেতৃত্ব দেন। যৌথ জরিপ দল গোয়াইনঘাটের পদুয়ার ১২৭০ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে ১২৭১ নম্বর পিলার পর্যন্ত স্থানে জরিপ পরিচালনা করে। গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর বিএসএফের ছত্রছায়ায় দেড় থেকে দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিক তীর-ধনুক নিয়ে বিরোধপূর্ণ ২৩০ একর জমিতে অবস্থান নিলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অবশ্য পরদিন পদুয়ার বিডিআর ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের পতাকা বৈঠকে দুঃখ প্রকাশ ও জরিপ কাজে সহযোগিতার বিষয়ে ঐকমত্য হলে উত্তেজনা হ্রাস পায়। এদিন পদুয়ায় দুই দেশের সার্ভে দল তাদের নির্ধারিত কাজ পর্যালোচনা করে।
কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া সীমান্ত বাংলাদেশ ভারতের বিরোধপূর্ণ ভূমির যৌথ জরিপ কাজ কোনো সমস্যা ছাড়া শেষ হয়েছে। এই সীমান্তের ১৩১৮/১ নম্বর মেইন পিলার থেকে বিরোধপূর্ণ ভূমির ওপর বাংলাদেশ ভারতের বিরোধপূর্ণ ভূমির যৌথ জরিপ করা শুরু হয়।
একটি সূত্র মতে, মেঘালয়ের খাসিয়ারা খ্রিস্টান ধর্মালম্বী হওয়ায় আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্সবের আমেজ চলছে। সে কারণে জরিপ কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। দুই দেশের আগের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর জরিপ শেষ হওয়ার কথা। তবে ভারতীয় একটি পত্রিকায় বলা হয়, জরিপ কাজ ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
উল্লেখ্য, গত এক বছর বিএসএফ পদুয়া থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সীমান্তে একাধিকবার উসকানিমূলক ঘটনা ঘটায়। বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের জমি থেকে ধান কেটে নেয় এবং গরু ধরে নিয়ে যায়। বিভিন্ন মহল থেকে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে অন্তত যৌথ জরিপের দাবি ওঠানো হলে গত ১২ জানুয়ারি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। ঘোষণায় ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি দু’পক্ষই মেনে চলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্য জয়েন্ট বর্ডার ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেবিডাব্লিউজি) সক্রিয় করা হয়। গত ২৯ নভেম্বর তামাবিল আইসিপিতে উভয় দেশের ভূমি সার্ভে কমিশনের যৌথ বৈঠকে ৭ ডিসেম্বর থেকে গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কানাইঘাট সীমান্তের বিরোধপূর্ণ ভূমি জরিপের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী সিলেটের তিন উপজেলায় গত ৮ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ-ভারত বিরোধপূর্ণ ভূমির যৌথ জরিপের প্রারম্ভিক কাজ শুরু হয়।

সিলেটে পদুয়া সীমান্তে শক্তি বাড়িয়েছে বিএসএফ

এটিএম হায়দার সিলেট

ভারতের মেঘালয় রাজ্য সংলগ্ন সিলেটের সীমান্তে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সীমান্ত জরিপ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পুনরায় শুরু হতে পারে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জরিপ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি জরিপ চলাকালে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের বাড়াবাড়ি এবং ক্রিসমাস ও নববর্ষ উপলক্ষে বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন সূত্রমতে ভারতের জবল দখলে থাকা বাংলাদেশের পদুয়ায় সম্প্রতি বিএসএফ তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করলেও এর কারণ জানা যায়নি। এদিকে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ জরিপ সম্পাদনে আশাবাদী থাকলেও মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো নিরসন না হলে পুনরায় জরিপ শুরু হলেও তার সফলতা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। আগের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর জরিপ শেষ হওয়ার কথা। তবে ভারতীয় একটি পত্রিকায় বলা হয়, জরিপ কাজ ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জরিপ দলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জরিপ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জৈন্তাপুর সীমান্তের নিজপাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মখলিছুর রহমান দৌল্লা আমার দেশকে বলেন, সীমানা পিলার অনুযায়ী সঠিক সার্ভে হওয়া দরকার। এতে যার যার ভূমি সঠিকভাবে চিহ্নিত হবে। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নের ডিবি বিলে ভারতীয়রা জরিপ শুরুর আগেই ৫৫ একর জমি তাদের বলে দাবি করে। তারা নিজেদের একতরফাভাবে তৈরি একটি ম্যাপও দেখায়। যা বাংলাদেশী জরিপ দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সঠিক জরিপ হলে আমাদের ভূমি ভারতীয় জবরদখল থেকে মুক্ত হবে। এ ব্যাপারে পশ্চিম জাফলং ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার উপস্থিতিতে জরিপ শুরু করা হলে তখন বোঝা যাবে কারা জরিপ কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সঠিক জরিপ হলে তার ইউনিয়নে জবরদখলকৃত সোনারহাট ও পদুয়ার জমি অবশ্যই ফেরত পাওয়া যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মেঘালয় থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সীমান্ত জরিপ পুনরায় শুরু হবে। পত্রিকায় আরও বলা হয়, বড়দিন উপলক্ষে রাজ্যের জরিপ দল সাময়িকভাবে কাজে বিরতি দিয়ে ছুটিতে গেছেন। মুক্তাপুরে বাংলাদেশের লোকজনের আপত্তিতে জরিপে বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এরই মধ্যে লোভাছড়ায় জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৯টি স্থান—লিংখহাট, পদুয়া, কুরিনালা, তামাবিল, আমলিয়ামপিয়িং, রঙখন, আমকি, আমিয়ালঙ ও মুক্তাপুরে সীমান্ত জরিপ করা হবে। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জরিপ শেষ হওয়ার কথা।
সীমান্ত থেকে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সাম্প্রতিক জরিপ শুরুর পর থেকে পদুয়ায় বিএসএফ অতিরিক্ত শক্তি বৃদ্ধি করেছে। গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর বিএসএফের ছত্রছায়ায় দেড়-দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিক তীর-ধনুক নিয়ে বিরোধপূর্ণ ২৩০ একর জমিতে অবস্থান নিলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অবশ্য পরদিন বিএসএফ পতাকা বৈঠকে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। বিভিন্ন সূত্রমতে, জরিপ এলাকাগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে বিএসএফ। কি উদ্দেশ্যে বিএসএফ শক্তি বৃদ্ধি করেছে তা রহস্যজনক।
বাংলাদেশ ও ভারতের ভূমি রেকর্ড সার্ভে কমিশন গত ২৯ নভেম্বর তামাবিল সীমান্তে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিরোধপূর্ণ ভূমির জরিপ শুরুর সিদ্ধান্তে ঐকমত্য হয়। সেই মোতাবেক ৭ ডিসেম্বর গোয়াইনঘাটের সোনারহাট সীমান্তে প্রাথমিক আলোচনা শেষে ৮ ডিসেম্বর মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয়। কিন্তু জরিপ চলাকালে জৈন্তাপুরের ডিবি বিলে ভারতীয়দের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভূমির মালিকানা দাবি এবং পদুয়ায় ভারতীয়দের উস্কানিমূলক আচরণে জরিপ কাজ ব্যাহত হয়। জরিপ চলাকালে ভারতীয়দের ‘বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার’—এ নীতি অবলম্বনসহ জবরদস্তি আচরণে জরিপের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে বলে বাংলাদেশের জরিপ কর্তৃপক্ষ মনে করছে।

Tuesday, 28 December 2010

লালমনিরহাটে বিএসএফ’র গুলিতে ব্যবসায়ী নিহত : সীমান্তে উত্তেজনা

লালমনিরহাট ও হাতিবান্ধা প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তে গতকাল ভোরে বিএসএফের গুলিতে সাইফুর রহমান (২০) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। ওই যুবকের লাশ বিএসএফ সদস্যরা টেনেহিঁচড়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে। সাইফুল উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের গোলাপ হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশী বর্ডার গার্ড (বিজিডি)। ঘটনার ১০ ঘণ্টা পরও সাইফুলের লাশ ফেরত না দেয়ায় ওই সীমান্তে বিজিডি-বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ফলে ওই সীমান্তের গ্রামবাসী ভয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিডি) সূত্র জানায়, গতকাল ভোর ৬টায় হাতিবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তের ৯০১নং মেইন পিলারের সাব-পিলার ৪-এর কাছে ভারতের ৪৬ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশে ঢুকে সাইফুলকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সাইফুল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর তারা সাইফুলের লাশ টেনেহিঁচড়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিডি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আসলাম হোসেন জানান, বিএসএফের গুলিতে নিহত সাইফুল গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সীমান্তে ভারতীয় গরু নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমানা আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তার লাশ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। লাশ ফেরত চেয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় বিশেষ দূতের মাধ্যমে ৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো সাড়া মেলেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরো সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যে কোনো মুহূর্তে আরও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সীমান্তবাসী আশঙ্কা করছেন ।

দু’বছরে সরকার অর্ধশত উলফা নেতাকে ভারতে হস্তান্তর করেছে



স্টাফ রিপোর্টার

২০০৯ সালের শুরু থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামরত প্রায় ৫০ উলফা নেতাকর্মীকে আটকের পর ভারতের কাছে হস্তান্তর করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন উলফা চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া, বোড়ো বিদ্রোহী নেতা রঞ্জন দাইমারি, মণিপুরি বিদ্রোহী নেতা রাজকুমার মেঘেন। এদিকে উলফার শীর্ষনেতা পরেশ বড়ুয়া অভিযোগ করেছেন, তার ছেলেকে বাংলাদেশে অপহরণ করা হয়েছে।
কলকাতা প্রতিনিধির উদ্ধৃতি দিয়ে অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ জানিয়েছে, ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়া বৃহস্পতিবার ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে তার ছেলেকে বাংলাদেশে অপহরণের অভিযোগ করেছেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার এ অভিযোগ সম্পর্কে তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরেশ বড়ুয়া অভিযোগ করেন, তার কিশোর ছেলেকে যারা অপহরণ করেছে তারা ভারত সরকারের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য তাদের চাপ দিচ্ছে।
পরেশ বড়ুয়া বলেন, কিন্তু এতে কাজ হবে না। আসামের স্বাধীনতার লড়াইয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ প্রাণ দিয়েছে, শহীদের ওই দীর্ঘ তালিকায় আমার ছেলের নাম যদি অন্তর্ভুক্ত হয় এবং যদি সেটা ঘটে তবে তার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
কিন্তু ছেলেকে কখন অপহরণ করা হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। তবে ঘটনাকে ‘একটি ভারতীয় ষড়যন্ত্র’ হিসেবে ইঙ্গিত করলেও কারা এর নেপথ্যে থাকতে পারে সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
বিবৃতিতে তিনি কিছু শীর্ষ উলফা নেতার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা এখন ‘যাবতীয় নীতিকথা বাতাসে উড়িয়ে দিচ্ছে’ এবং ভারত সরকারের সঙ্গে আপসের চেষ্টা করছে।
পরেশ বড়ুয়া এ ধরনের আপসকামিতার বিরোধিতা করে বলেন, আসামের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি প্রাধান্য না পেলে ভারতের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। তবে ভারত সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বলা হচ্ছে, উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোথাও আত্মগোপন করে আছেন। তার স্ত্রী ববি বড়ুয়া ওরফে সুফিয়া বেগম ও ছেলে তাহসিম বড়ুয়া ওরফে আকাশ খান ঢাকায় অবস্থান করছেন। ভারতের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় রাজি হওয়ার পর আসামের কারাগার থেকে অনেক উলফা নেতাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
আসাম সরকার উলফা নেতা অরবিন্দ রাজখোয়ার জামিন আবেদনের বিরোধিতা না করায় খুব শিগগিরই তাকেও মুক্তি দেয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ থেকে আটকের পর রাজখোয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়

রাজশাহী সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

রাজশাহী অফিস

রাজশাহীর খানপুর সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে এক গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই গরু ব্যবসায়ীর নাম তাজেরুল ইসলাম (৩০)। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। গত শুক্রবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
মতিহার থানা সূত্রে জানা যায়, তাজেরুল কয়েকজন সহযোগীসহ গরু আনতে ভারত সীমান্তে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গীরা ফিরে আসতে সক্ষম হলেও তাজেরুলকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। তাজেরুলের সহযোগীরা এ খবর খানপুর বিজিবি
ক্যাম্পে জানায়। এরপর রাতে নোম্যান্সল্যান্ডে তার লাশ ফেলে রেখে যায় বিএসএফ।

ভারতীয় পত্রিকার খবর : জঙ্গি সন্দেহে ১৮ বাংলাদেশী ভারতে আটক

কূটনৈতিক রিপোর্টার

ভারতীয় জলসীমা থেকে ট্রলারসহ ১৮ বাংলাদেশীকে জঙ্গি সন্দেহে আটক করা হয়েছে বলে একটি ভারতীয় পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে।
ভারতীয় দৈনিক পত্রিকা বর্তমান-এ প্রকাশিত এই খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে বংগাদুনি দ্বীপের কাছ থেকে সোনারতরী নামের একটি ট্রলারসহ ১৮ বাংলাদেশীকে আটক করে ভারতীয় কোস্টগার্ড।
এই আটকের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত রাতে জানান। ভারতীয় পত্রিকার খবরে বলা হয়, ট্রলারটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে এসে ভারতীয় জলসীমার ২৫ কিলোমিটার ভেতরে বংগাদুনি দ্বীপের কাছে ঘোরাফেরা করছিল।
এ সময় ভারতীয় জেলেরা কোস্টগার্ডের কাছে খবর পাঠায়। পরে ভারতীয় কোস্টগার্ডের একটি হোভারক্রাফট ট্রলারটিকে ১৮ জন বাংলাদেশীসহ আটক করে। এ ব্যাপারে ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসক জানান, সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।